আদিবাসীদের শংসাপত্র নিয়ে দুর্নীতি, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ রাজ্যেরই মন্ত্রীর, তদন্তের নির্দেশ
ওবিসি শংসাপত্রেরপর এবার তফসিল জাতি ও তফসিল উপজাতিদের শংসাপত্র নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মন্ত্রী বীর বাহাসটা অভিযোগ জানিয়েছেন যে তফশিল জাতি ও তফসিল উপজাতি শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গরমিল রয়েছে। যারা এই শংসাপত্র পাওয়ার অধিকারী নয় তারাও এই শংসাপত্রের সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। সোমবার নবান্নে আদিবাসী উন্নয়ন সংক্রান্ত আদিবাসী উন্নয়ন কাউন্সিলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই চিঠি তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। চিঠি হাতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানিয়ে দেন যে তাঁর কাছেও এধরনের বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। তৎক্ষণাৎ বৈঠকে উপস্থিত মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ কে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন। মূলত, সোমবারের বৈঠকে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি পরীক্ষায় তথা স্কুলে কলেজে অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যান্য নিযুক্তির ক্ষেত্রে দেখা গেছে যোগ্য প্রার্থী তালিকায় যারা এসসি/ এসটি নন এমন লোকেদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সমস্যা ২০২১ সাল থেকেই চলে আসছে। এর থেকেই যাবতীয় জটিলতার সৃষ্টি ও এসসি, এসটি তালিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক হয়ে উঠেছে। এরপরই সব বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তফশীল জাতি ও তফসিল উপজাতিদের শংসাপত্র সংক্রান্ত এই ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে। পাশাপাশি সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে অলচিকি হরফে প্রশ্নপত্র না থাকা নিয়েও অভিযোগ পেয়ে সে ব্যাপারেও মুখ্য সচিব কে প্রয়োজনীয় তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের আদিবাসী উন্নয়ন কাউন্সিলের বৈঠকে আদিবাসীদের জমি বেদখল হয়ে যাওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেই নোমান নেই প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে আদিবাসীদের জমি দখল নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলায় জেলায় বিধায়ক সাংসদ এমনকি নেতা মন্ত্রীদের এ ব্যাপারে উপযুক্ত দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে বীরবাহা হাঁসদা, সন্ধ্যারানি টুডু জ্যোৎস্না মান্ডি এবং বুলুচিক বরাইক
রাজ্যের এই চার মন্ত্রীকে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে তাদের অভাব-অভিযোগ থেকে জমি দখল সমস্ত সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বৈঠকে চার মন্ত্রী উপস্থিত থাকায় মুখ্যমন্ত্রী ফের তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আরও বেশি তৎপর হয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানিয়েছেন, আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন এবং তাদেরকে ভালো রাখার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে আদিবাসী উন্নয়নে কোন ধরনের গাফিলতি বা দীর্ঘসূত্রিতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী উন্নয়ন কাউন্সিলের ১৫ জন সদস্যের মধ্যে ঝাড়্গ্রামের সাংসদ কালীপদ সরেন সহ চারজন অনুপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে দুজন রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির নেতা। উত্তরবঙ্গের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ১০ রাত্রিকে এবং মালদা উত্তরের বর্তমান বিজেপি সাংসদ অগেন মুরমু বৈঠকে আমন্ত্রিত হয়েও হাজির ছিলেন না। বিজেপি নেতারাসহ কাউন্সিল সদস্যদের অনুপস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ” কারা আসবেন, কারা আসবেন না, সেটা তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ব্যাপার। কারও আবার মতদর্শগত অসুবিধা থাকতে পারে। তবে আদিবাসী উন্নয়ন রাজ্য সরকারের একটি অন্যতম কর্মসূচি। আমাদের দায়িত্ব হিসেবে আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” যদিও বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন ” প্রাথমিকভাবে আদিবাসীদের জন্য এই বৈঠকে তাদের যাওয়ায় কোন বাধা ছিল না। তবে কাউন্সিল বৈঠকের এজেন্ডা তাঁদের কাছে না পৌঁছনায় তারা এই বৈঠকে হাজির হতে পারেননি।”

