দফতরে কর্মী ও জায়গার অভাব, বঙ্গে এসআইআর সমস্যা নিয়ে কমিশনকে জানাতে পারেন সিইও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে ভোটার তালিকার এসআইআর চালু করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। বুধবার দিল্লিতে দশ দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে এসআইআর প্রস্তুতি নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেবেন দেশের ৩৬ জন সিইও। শেষবার এসআইআর পরবর্তী ভোটারের ম্যাপিং, বর্ধিত ভোটারের কত শতাংশ কমিশন নির্দেশিত নথির আওতাভুক্ত, নয়া নিয়মে কত বুথ বাড়ছে এবং তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ কি, নয়া বুথ বিন্যাসের ক্ষেত্রে কিভাবে বুথ সংযুক্তিকরণের কাজ করা হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে কমিশনকে বোঝাবেন দেশের সিইও-রা। কিন্তু বিহারের পর যে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করা নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে সেই বঙ্গে এসআইআর চালু করা নিয়ে সিইও দফতরের এখন মূল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মীস্বল্পতা ও দফতরের স্থান সংকুলান। সূত্রের খবর, বুধবার দিল্লিতে সিইও-দের কনফারেন্সের ফাঁকে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবিষয়ে কথা বলতে পরেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল।
মূলত, বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া চালুর পর থেকেই ছাব্বিশে নির্বাচনমুখী পাঁচ রাজ্যে এসআইআর নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হবে না বলে হুঙ্কার দেয় রাজ্যের শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন রাজ্য সিইও দফতরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেয়। সিইও দফতরে প্রাথমিকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য নম তালিকার প্যানেল চেয়ে পাঠানো হয়। রাজ্য সিইও দফতরে জায়গার সংকুলান কম, তাই পর্যাপ্ত জায়গাসহ নতুন ভবনে সিইও দফতরকে স্থানান্তরের আবেদনও জানানো হয়। এখনো পর্যন্ত সিইও অফিসের নতুন ঠিকানা নিয়ে যেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি তেমনি একজন আর্থিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা ছাড়া সিইও দপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সরকারি উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। কর্মী স্বল্পতার জন্য তিনজন আধিকারিক এর যে নাম তালিকার প্যানেল নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিল রাজ্য তা বাতিল করে রাজ্যকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে কমিশন। নতুন তালিকা পাঠানোর কথা থাকলেও এই খবর লেখা পর্যন্ত নতুনভাবে কোন প্যানেল কমিশনের কাছে পাঠায়নি রাজ্য।
বস্তুত, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সহ যেখানে সাধারণভাবে থাকা দরকার মোট ১১ জন আধিকারিক সেখানে এই মুহূর্তে রয়েছে কেবলমাত্র ৭ জন। নিদেনপক্ষে দু’জন অতিরিক্ত নির্বাচনী আধিকারিক, দু’জন ডেপুটি নির্বাচনী আধিকারিক ও একজন জয়েন্ট সিইও পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগের আশু প্রয়োজন।
একদিকে দফতরের নিয়মিত কাজ তার উপর এসআইআর প্রক্রিয়ার বহুমুখী কর্মসূচি ‘ গোদের উপর বিষফোঁড়া ‘ হয়ে দাঁড়াতে চলেছে। সম্প্রতি বিহারের এসআইআর তা দেখিয়ে দিয়েছে। শুধু আধিকারিক সমস্যাই নয়, এসআইআর বাস্তবায়নে প্রয়োজন ব্যাপক সংখ্যার সাধারণ কর্মীও। কারণ ভিতরে-বাইরে মিলিয়ে বেশ কিছু অতিরিক্ত কাজের চাপ রয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে। তাই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের এখনো কিছুটা সময় থাকলেও দ্রুত যদি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরে প্রযোজনীয় নিয়োগ না হয় তাহলে রীতিমতো ধাক্কা খাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ। এসআইআর শুরুর পর যে পর্যায়ে পরিকাঠামোর প্রয়োজন ও কাজের চাপ তৈরি হবে তাকে সামাল দেওয়া নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের আশঙ্কা
“পর্যাপ্ত কর্মী না মিললে এসআইআর প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রতিফলনে সমস্যা হবে। সেক্ষেত্রে যতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হওয়া প্রয়োজন ততটা হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।”
এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট রাজনীতি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে। তার উপর এসআইআর বিতর্ক ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব বিষয়টি নিয়ে যত জলঘোলা করেছে ততই ভোটার তালিকা নিয়ে উন্মাদনা বেড়েছে অনেকটাই। এমতাবস্থায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্তবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে যদি যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী না মেলে তাহলে এসআইআর প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়।

