২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: অ্যাডভান্টেজ ঘাসফুল
Voice of Bengal Special Story
আর কয়েকটা মাস। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে এই রাজ্যে লড়াই করবে বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। চতুর্মুখি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দেশের রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দল একত্রিত হওয়ার ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে একজোট হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিষয়টা একেবারেই আলাদা। তৃণমূল কংগ্রেসের বিপক্ষে এখানে ইন্ডিয়া জোটে থাকা সিপিএম ও কংগ্রেসের ভূমিকা অন্যরকম। ভারতীয় জনতা পার্টি প্রধান বিরোধী শক্তি, পশ্চিমবঙ্গে। তবুও শাসকদলের বিপক্ষে রাজনৈতিক লড়াইতে রয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেস। গত বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম এবং কংগ্রেসের ঝুলিতে একটি আসনও জোটেনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম এবং কংগ্রেসের অবস্থা মোটামুটি একই রকম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি স্বপ্ন দেখছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলের। শাসক দল, তারাও স্বপ্ন দেখছে চতুর্থ বারের জন্য ক্ষমতা দখলের। সিপিএম বা কংগ্রেস অন্তত একটি আসন যাতে জিততে পারে, সেই আশাতে রয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সামনে রেখেই শাসক দল ক্ষমতা দখলের জন্য এগোচ্ছে। যদিও সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় প্রায় সব বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ফলে তার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শাসক দল যে আশা করছে, বিধানসভা নির্বাচনে তারা শুধু জিতবেন এমনটাই নয়, গতবারের তিন বিধানসভা নির্বাচন থেকেও বেশি আসন লাভ করবেন। কিন্তু কোন মন্ত্রে? সেই মন্ত্র খোঁজার এক প্রচেষ্টা ‘আরো খবর’ করলো। কোন কোন বিষয়গুলির ওপর দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছেন। শাসক দলের পরিষ্কার মতামত, এটা স্বপ্ন নয় বাস্তব হতে চলেছে। আমরা বিষয়টিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিয়েছি। যে বিষয়গুলি বা ‘ফ্যাক্টর’ গুলি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী বিধানসভায় জয়লাভ করার ‘মন্ত্র’। তার মধ্যে প্রধান ‘ফ্যাক্টর’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
ফ্যাক্টর-১
দলনেত্রী যেখানে মমতা
——————————–
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লড়াইতে নামছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই একটা ‘ফ্যাক্টর’। রাজ্য রাজনীতি তো বটেই জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব যথেষ্ট। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি জাতীয় রাজনীতির রূপরেখা তৈরি করার জন্য যার শরণাপন্ন হন, তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে শাসকদদের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাদের মত করে কাজ করেছে বা করছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তারা অসফল। আবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত একসময়কার হেভি ওয়েট মন্ত্রী এখনো জেলবন্দী। আম আদমি পার্টির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ছিল। এবং তাকে গ্রেপ্তার করাও হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিজেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধী দল বারবার দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপক্ষে কোন দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নেই। সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ক্লিন ইমেজ’ আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ‘ফ্যাক্টর’।
ফ্যাক্টর -২
মহিলা ভোটব্যাংক ও লক্ষীর ভান্ডার
————————
তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা ভোটব্যাংক অটুট রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সালে বঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে যারা অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিল, সেই বামেরাও মমতার মহিলা ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে একের পর এক পরিকল্পনায় হেরে ভূত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দলের দিকে টেনে আনতে নানান ব্যাখ্যা এবং প্রকল্প শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ‘লক্ষীর ভান্ডার’ প্রকল্প রীতিমতো মাইলস্টোন। এই প্রকল্পে বঙ্গের প্রতিটা মহিলাই তাদের নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে প্রতি মাসে নেতৃত্ব অর্থ পেয়ে থাকেন। ৬০ বছর বয়সের পর সেটাই হবে বার্ধক্য ভাতা। অর্থের পরিমাণ সামান্য হলেও, সারা জীবন সরকারি ভাবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে এটা নিশ্চিত। এখন আর বঙ্গের মহিলাদের হাত পাততে হয় না। নিজেদের চাহিদার কিছু অংশ হলেও মেটাতে পারেন লক্ষ্মীর ভান্ডারে মাধ্যমে। এরপর রয়েছে ‘স্বাস্থ্য সাথী’। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পাঁচ লক্ষ টাকার ইন্সুরেন্স। সেই কার্ডের প্রথম নামটি সংসারের মহিলার নামে। আর জি কর হাসপাতালের জঘন্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন হয়েছে। মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবুও মহিলা ভোটব্যাঙ্ক শাসক দলের পক্ষেই নিজেদের মতামত দেবে এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।
ফ্যাক্টর – ৩
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক
—————————
মহিলা ভোটব্যাংকের মত শাসক দলের এখনো পর্যন্ত পক্ষে রয়েছে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক। সংখ্যালঘুদের আর্থসামাজিক, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে চলা তৃণমূল সরকার দেখেছে। ফলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এখন পর্যন্ত শাসক তাদের পক্ষেই রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফ্যাক্টর – ৪
একাধিক প্রকল্প ও দুয়ারে সরকার
———————————
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা একাধিকবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। এমনকি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকেও রিপোর্ট আকারে মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের জন্য একাধিক প্রকল্প শুরু করেছে। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী সহ ৯০ টার উপর প্রকল্প। কোন না কোনভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা মানুষ সেই সুবিধা পান। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থাকার পরেও বিভিন্ন প্রকল্প চালিয়ে নিয়ে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে চলা তৃণমূল সরকার। যেটা মানুষের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করেছে। এরপর রয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’। সাধারণ মানুষের কাছে আসবে সরকার। তাদের অভাব অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার নিজে। একাধিকবার এই দুয়ালে সরকার গোটা রাজ্যজুড়ে হয়েছে। প্রতি সময়ে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নয়া প্রকল্প ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ মেগা হিট। সাধারণ মানুষ নিজেরাই ঠিক করছেন কোন সমস্যার সমাধান দ্রুত করতে হবে। এই ধরনের প্রকল্প মমতার দুর্দান্ত চিন্তার ফসল হিসাবেই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
ফ্যাক্টর -৪
কৃষকদের পাশে সরকার
——————————–
১৯৭৭ সালে বামেরা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পর কৃষক তথা কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছিল। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। তবে শুধুমাত্র মুখে বার্তা দেওয়া সেটা নয়। বিনামূল্যে শস্য বীমা, কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য কারণে ফসল নষ্ট হলে কৃষি বীমা অত্যন্ত কার্যকরী। এবং এর জন্য কৃষকদের একটি পয়সাও খরচ করতে হয় না। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া হয়। বিগত কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থাকার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে চলা তৃণমূল সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। যার ফলে কৃষকদের একটা বড় অংশ এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেছেন।
ফ্যাক্টর – ৫
১০০ দিনের কাজ থেকে বাংলার বাড়ি
——————————
একসময় দেশের মধ্যে ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষ স্থানে ছিল। তারপর নেত্রীয় সরকারের এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের নাম প্রায় উধাও। দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। একাধিক কেন্দ্রীয় দল এসেছে পরিদর্শনে। রিপোর্ট দিয়েছে। এই সমস্ত গলদ ছিল, দ্য মিটিয়েছে রাজ্য সরকার। তবুও ১০০ দিনের টাকা বন্ধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে ধরনা দিয়েছেন। তাতেও কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত কলকাতার রেড রোডে দলীয় অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 100 দিনের কাজের টাকা রাজ্য সরকার দেবে বলেই ঘোষণা করেছিলেন। সেইমতো ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে জব কার্ডের হোল্ডার দের সমস্ত কিছু যাচাই করে প্রাপ্য টাকা রাজ্য সরকার দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের পাশে থাকার বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু খাতায়-কলমে করেননি। রাজনীতির বিষয়ে যাই থাকুক না কেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার যাই থাকুক না কেন, মানুষ তার প্রাপ্য পেয়েছেন। এরপর আবাস যোজনা। পশ্চিমবঙ্গে যেটা ‘বাংলার বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত। এখানেও সেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা হয়েছে, এমনটা অভিযোগ বারবার নবান্নের। তবুও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা ইতিমধ্যেই ১২ লক্ষ মানুষ পেয়েছেন। আগামী সময়ে আরো ১৬ লক্ষ মানুষ পাবেন। মাথার উপর ছাদ, মানুষের জীবনে বড়ই জরুরী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসনীয়। প্রাপক মানুষদের আশীর্বাদ করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এছাড়া আরো বেশ কিছু বিষয় বস্তু রয়েছে, যা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। চলতি সময় ‘বাঙালি সেন্টিমেন্ট’ একটা বড় বিষয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠে আসছে, ভীন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার বাঙালি পরিচায়ী শ্রমিকদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক দক্ষতায় তাদের রক্ষা করেছেন। বিভিন্ন দিকে ভাষা আন্দোলনের মিছিল করেছেন। বাংলা ও বাঙ্গালীদের ওপর হেনস্তার বিষয়টিকে সামনে রেখে রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই প্রস্তাবে অবশ্য ভারতীয় জনতা পার্টি বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। স্বভাবতই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ‘বাংলা বিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা ও বাঙালি সংক্রান্ত বিষয় ইস্যু হিসাবে উঠে আসবে। পাশাপাশি শিল্পায়ন। বামেরা একসময় স্লোগান দিয়েছিল, কৃষি আমাদের ভিত্তি শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ। শিল্প ক্ষেত্রে ২০১১ সালে ক্ষমতা বদলের পর থেকে একটা কিছু করার চেষ্টা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবছর শিল্প সম্মেলন হয়েছে। শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ ঘোষিত হয়েছে সেই শিল্প সম্মেলনে। কিন্তু বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছে, এটা তো শুধু খাতায়-কলমে। বাস্তবে কোথায়? কিন্তু তারপরেও আমেরিকাতে বসে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প কলকাতাতেই হবে, ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শিল্প করতে সমস্ত ধরনের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন, আশ্বাস দিয়েছিলেন। মুকেশ আম্বানি অষ্টম বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে অন্যান্য শিল্পপতিদের বঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান করেছিলেন। ইনফোসিস সহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সংস্থাগুলি এখন কলকাতার দিকে নজর দিয়েছে। বহু সংস্থা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই- একটি ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে। তার মধ্যে আরজিকর হাসপাতালের ঘটনা নিন্দনীয়। কিন্তু তাই বলে গোটা পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, এটা শুধুমাত্র বিরোধীদের খাতায়-কলমে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জন্য সওয়াল করেছিলেন। আবার আরেক বিরোধী সিপিএম বঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের বিপক্ষে মত দিয়েছে। কলকাতা কেন্দ্রীয় মতে দেশের ‘সেফেস্ট সিটি’। পাশাপাশি সামাজিকতা নিয়েও বিরোধীদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু মুসলমান খ্রিস্টান সহ অন্যান্য বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাদের নিজেদের রিচুয়াল পালন করেন নির্দ্বিধায়। ফলে সেই অর্থে সামাজিক সমস্যা পশ্চিমবঙ্গে খুব একটা নেই। ২০১১ সালের পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে চলা তৃণমূল সরকারের উপরেই ভরসা করেছেন সাধারণ মানুষ। বিরোধীদের সেই অর্থে বড়োসড় কোন ইস্যু নেই, যা নিয়ে শাসক তাদের বিপক্ষে কলকাতা তথা গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক আন্দোলন সম্ভব হবে। উন্নয়ন থেকে সামাজিকতা, মহিলাদের ক্ষমতায়ন থেকে কৃষি ক্ষেত্র, শিল্প থেকে দুর্গাপুজো সবকিছুতেই এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই মানুষ ভরসা রাখবেন, এটাই আশা রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফের আসবে, এটা প্রায় নিশ্চিত, এমনটাই বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
কপির পেটে: ২০২৬ এর নির্বাচনে ফের ফ্যাক্টর মমতা
** ২৫ তারিখ থেকে দুর্গাপুজো শুরু। সেই সময় সংবাদ পাওয়া কঠিন। আগে থেকে দুর্গাপুজোর দিনগুলোর জন্য খবর দিয়ে রাখলাম।।
এটা শুধুমাত্র দুর্গাপুজোর দিনের জন্যই কপি।।

