হেডলাইন

‘জল জীবন মিশনে’ বঞ্চনার শিকার বাংলা, প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার পাওনা ঠিকাদারদের

একশো দিনের কাজ, সড়ক প্রকল্প, সর্বশিক্ষা অভিযান ও আবাস যোজনার পরে ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলছে বাংলা। এবার আঙুল উঠছে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’-এর দিকে। অভিযোগ, রাজ্যের হাজার হাজার ঠিকাদার, মিস্ত্রি, কর্মী ও সরবরাহকারীরা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপন্ন।

২০১৯ সালের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘হর ঘর জল’ স্লোগান দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন দেশের প্রতিটি পরিবারে স্বচ্ছ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা। কেন্দ্র ও রাজ্য সমান অনুপাতে এই প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করে। কোভিডে প্রকল্প কিছুটা মন্থর হলেও ২০২১ থেকে ফের জোরকদমে এগোতে থাকে কাজ।

কিন্তু অভিযোগ, ২০২৩ সালের পুজোর পর থেকে ঠিকাদাররা কোনও অর্থ পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যেই বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা, আর কাজ শেষ হলেও বিল তৈরি হয়নি এমন প্রকল্পে বকেয়া আরও প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ১৩ মাসে ঠিকাদারদের পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি নির্বাচনের সময় অস্থায়ী টয়লেট ও পানীয় জলের ব্যবস্থার খরচ বাবদ রাজ্যের কাছে বাকি রয়েছে আরও ৩২৫ কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের ঠিকাদারদের সংগঠন। সূত্রের খবর, পুজোর আগে সামান্য অর্থ পেলেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে, সেই লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জেলা জুড়ে আন্দোলন এবং দীপাবলির পর দিল্লিতে গিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির প্রস্তুতিও চলছে। সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—
• মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি জমা
• যন্তর মন্তরে ধরনা
• রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানানো

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামীণ ভারতের ১৯.৫ কোটি পরিবারের মধ্যে এখনও সাড়ে ৩ কোটির বেশি পরিবারে কল পৌঁছয়নি। এমন অবস্থায় বাংলার ঠিকাদাররা যদি অর্থ না পান এবং কাজ থমকে যায়, তবে ২০২৪ সালের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রত্যেক ঘরে জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য পূরণে আরও বড় বাধা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা।

Share with