বিএলও অভাব ঠেকাতে আশা-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ভরসা রাজ্য সিইও দফতরের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর নিয়ে দামামা বেজেছে। এ রাজ্যেও এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন, এই বিশাল কর্মযোগে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সরকারি কর্মীর যোগান মিলবে কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরও।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এনআইসি-র মাধ্যমে প্রায় ৮০০ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সহ হাজারখানেক চুক্তিভিত্তিক কর্মী সরবরাহের জন্য নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এতে কি অভাবের সংসারের টানাপোড়েন মিটবে ? সেই ভাবনাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের কাজ তো দ্বিতীয় ধাপে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যারা ভোটারদের থেকে ডেটা সংগ্রহ করবেন বা ভোটার যাচাই করণের আজ করবেন সেই বি এল ও বা বুথ লেভেল অফিসারদের পর্যাপ্ত সংখ্যা মিলবে তো? সেটাই এখন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের কাছে।
যেহেতু নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ কোন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না সেখানেই বেধেছে বিপত্তি। কারণ ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান ‘ সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও সরকারি কাজকর্ম সামাল দেওয়ার পাশাপাশি একসঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ করা সরকারি কর্মীদের পক্ষে সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে এসআইআর-এর জন্য পূর্ণ সময় সরকারি কর্মীর প্রয়োজন। রাজ্যে বর্তমানে ৮০ হাজার ৬৮১ টি বুথ রয়েছে। নতুনভাবে বুথ বিন্যাস এর ফলে আরও ১৩ হাজার ৮১৭ টি বুথ সংযুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা। অর্থাৎ প্রায় ৯৫ হাজার বুথে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে বিএলও নিয়োগ করা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা। সেক্ষেত্রে কমিশনের বিকল্প নির্দেশ হিসেবে তাদের ভরসা আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাই। নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের রাজ্যের বিভিন্ন বুথে বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করে এস আই আর প্রক্রিয়ায় ভোটার যাচাইকরণের কাজ সম্পন্ন করতে চায় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সেক্ষেত্রে মোট বিএলও সংখ্যার ২০-২৫ শতাংশ আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাজে লাগানো হতে পারে বলে ধারণা। অবশ্য আশা কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসআইআর করার কাজে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে। একইসঙ্গে রাজ্যে এসআইআর সম্পন্ন করতে বিহারের ধাঁচেই স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োগ করতে চায় রাজ্য সিইও দপ্তর।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বিএলও নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্যকে চারটি পদ্ধতি মাথায় রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে, ১৯৫০ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৩বি (২) ধারা অনুযায়ী গ্রুপ সি (শিক্ষক সহ) অথবা তার ঊর্ধ্বে নিয়মিত সরকারি কর্মীরাই বিএলও হিসেবে নিযুক্ত হবেন। এবং প্রতিটি বিএলও-কে সংশ্লিষ্ট বুথ বা পার্টের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যদি নির্দিষ্ট সরকারি কর্মী না পাওয়া যায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক যারা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পান তাদের নিয়োগ করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্য ডিইও এবং ইআরও-দের অনুমোদন দেবে রাজ্য সিইও দপ্তর। তৃতীয় পদ্ধতি হিসেবে অন্য বুথের বাসিন্দা অথচ সংশ্লিষ্ট বুথে কাজ করেন এমন সরকারি কর্মীকেও বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সিইও দপ্তর থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে ডিইও এবং ইআরও-দের। চতুর্থ বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যেকোনও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা থেকেও কর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সিইও দফতরকে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। এই বিকল্প প্রস্তাবগুলি মাথায় রেখে পর্যাপ্ত নিয়মিত সরকারি কর্মীকে বিএলও পদে না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বি এল পদে নিয়োগ করতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তর। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সরাসরি সরকারি কর্মী না হলেও সরকারি কোষাগার থেকে তাদের ভাতা দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালনের তাদের নিযুক্ত করা হয়। সেক্ষেত্রে আর পাঁচটি চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী কর্মীদের থেকে আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিয়োগ পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাম্মানিক সরকারি কর্মী হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই রাজ্যে এস আই আর প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও মসৃণভাবে পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশনের বিকল্প প্রস্তাবকে মান্যতা দিয়ে বি এল হিসেবে আশা কর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাজে লাগাতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।

