এসআইআর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার, যাবেন জেলা সফরেও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
এসআইআর নিয়ে রাজ্য কতটা প্রস্তুত ? এবার তা খতিয়ে দেখতে দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তাঁর সঙ্গে থাকবেন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না ও অন্যান্য আধিকারিকরা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৭ অক্টোবর রাতেই কলকাতায় পৌঁছবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। ৮ অক্টোবর রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক তথা ডিইও, এডিএম নির্বাচন, ইআরও, ওসি নির্বাচন এবং তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক করবেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। এই বৈঠকে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার যেকোনো বিষয় উত্থাপন করতে পারেন, সেভাবেই জেলার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরের পক্ষ থেকে। জেলা স্তরের বৈঠক শেষে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সহ সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন জ্ঞানেশ ভারতী ও সীমা খান্না-রা। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে এসআইআর প্রক্রিয়া কিভাবে রূপায়িত হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি চূড়ান্ত ছবিটা কি তা নিয়েই এই বৈঠকগুলিতে আলোচনা হবে। বিশেষ করে এস আই আর প্রক্রিয়া সহ সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন গোটা ৩০ এ যে সংস্কারমুখী পদক্ষেপ করেছে সেই ব্যবস্থাপনার রূপায়ণ কতটা হয়েছে তাও পরখ করে দেখবেন প্রতিনিধিদল। যাবতীয় বৈঠক শেষে দু’তিনটি জেলায় এই প্রস্তুতির কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যাবে প্রতিনিধিদল। শুধু জেলা সদর নয় মহকুমা স্তরে এমনকি ব্লক স্তরেও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখবেন বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রক্রিয়ায় কতটা সুষ্ঠুভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে তা বিশদে খতিয়ে দেখবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই বিহারের এস আই আর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশেই একইসঙ্গে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করার কথা নির্বাচন কমিশনের। তার আগেই রাজ্যের রাজ্যে এস আই আর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চায়, নির্বাচন কমিশন। একদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী রাজ্য তার উপর রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট সচেতন বঙ্গ রাজনীতিতে এসআইআর চালু হলে তার প্রভাব কি হতে পারে সে বিষয়গুলো মাথায় রাখছে নির্বাচন কমিশন। মনে রাখতে হবে, বিহারে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যে রাজ্যে প্রথম এসআইআর নিয়ে বিরোধিতার রাজনৈতিক সুর চড়া হয়েছিল তা এই পশ্চিমবঙ্গেই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে নির্বাচন সদন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিলেন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে। পরবর্তীকালে জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া- নেতৃত্ব নির্বাচন সদন ঘেরাও অভিযান করে। মূলত তৃণমূলের নেতৃত্বেই এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সংসদের ভিতরে ও বাইরে আন্দোলন সংগঠিত হয়। তারই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর প্রস্তুতিতে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা কতটা সচেষ্ট। এবং নির্বাচনী গাইডলাইন মেনে তা কতটা রূপায়িত হচ্ছে সেদিকে বিশেষ নজর থাকবে, কমিশনের কর্তা ব্যক্তিদের তা বলাই বাহুল্য।

