সোমবার দার্জিলিং যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, বিপদ থেকে উদ্ধারে ভালো কাজের স্বীকৃতিতে পুরস্কার দেবে রাজ্য
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গতদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে উদ্ধার এবং বিপদমুক্ত করার কাজে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, দুর্যোগ মাথায় নিয়ে এবং বিপদকে সঙ্গী করে রাজ্য পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মী, দমকল, বিএমওএইচ সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা বিপদগ্রস্থ মানুষকে রক্ষা করেছেন তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। দিনরাত এক করে উদ্ধার কাজ চালিয়েছেন সরকারি কর্মীরা। বিপদ হাতে নিয়ে সরকারি কর্মীদের এই ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে চায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, বিপদ সংকুল এই মুহূর্তে যারা দুর্গত মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে বিপদগ্রস্তদের প্রাণরক্ষা করেছেন তাদের পুরস্কৃত করা হবে। অবিলম্বে সেই উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী সোমবার ফের উত্তরবঙ্গে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ মিরিক মহকুমা। সেকারণে এবার তিনি সরাসরি যাবেন দার্জিলিঙে। দার্জিলিং থেকেই মিরিকের যাবতীয় পুনর্গঠন ও ত্রাণ বিলি-বন্টন ব্যবস্থার তদারকি করবেন মমতা।
এদিন ঘনিষ্ঠমহলে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের নদী পরিকল্পনা বা প্রতিবেশি নেপাল-ভুটান থেকে আসা নদীগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দু’দেশের নদী কমিশনে রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে পরিকল্পনার কাজে কেন্দ্রের গড়িমসি, নদী সংস্কার বা নাব্যতা রক্ষার কাজ না করার পাশাপাশি নদী ভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠনের কাজে রাজ্যকে টাকা না দেওয়া নিয়েও কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি এই দুর্যোগের দিনেও ডিভিসির জলাধারগুলি থেকে রাজ্যের অজান্তে লাগামছাড়া জল ছাড়ার ফলে রাজ্যে প্লাবন পরিস্থিতি যে আরও জটিল হয়েছে প্রতিবারের মত এবারেও সেকথা উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন আগামী ১১ অক্টোবর মাইথন জলাধারে বিক্ষোভ দেখাবে রাজ্যের শাসকপন্থী সংগঠন। মাইথনের পর পাঞ্চেত জলাধারেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানিয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, তাঁর উদ্যোগেই উত্তরবঙ্গে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে কলকাতায ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোররাত পর্যন্ত উত্তরকন্যায় বসে থেকে ত্রাণ বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে দুর্যোগের সময় বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে আপত্কালীন কলকাতায় ফেরার উড়ান ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন মমতা। দলীয় সংগঠনকে দিল্লি এবং বাগডোগরা যৌথভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী।

