‘ বোরকা ‘ পরা ভোটারদের জন্য বুথে বিশেষ ব্যবস্থা, ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রে দেওয়া যাবে ভোট জানালো কমিশন
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
‘ পর্দানসিন ‘ বা ‘ বোরকা ‘ ব্যবহারকারি মহিলাদের ভোটদানের জন্য এবার বিশেষ ব্যবস্থা নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এ ধরনের মহিলা ভোটারদের ভোটার হিসেবে চিহ্নিতকরণের জন্য ভোটের বুথে মহিলা নির্বাচন কর্মী বা সহায়িকা থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ধর্মীয় প্রথা মেনে বা শালীনতা রক্ষার জন্য যে মহিলারা ‘ বোরকা ‘ ব্যবহার করেন তাদের ধর্মীয় আচার বা প্রথা অথবা সংস্কার অক্ষুন্ন রেখে মহিলা নির্বাচন কর্মীরা ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভোটার হিসেবে তাদের চিহ্নিতকরণের কাজ করবেন। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে অর্থাৎ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যারা যোগ্য ভোটার হিসেবে গণ্য হয়েছেন ভোটদানের জন্য সেই ভোটাররা নির্দিষ্ট সচিত্র ভোটার কার্ড বা এপিক কার্ড ছাড়াও আরও ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আসন্ন বিহার বিধানসভা সাধারণ নির্বাচনসহ দেশের ৮ টি বিধানসভার উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা চালু হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের বিধানসভা নির্বাচনগুলিতেও যেহেতু বিহার মডেল অনুসরণ করা হবে সেক্ষেত্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য যোগ্য ভোটাররা নির্দিষ্ট সচিত্র ভোটার কার্ড ছাড়াও এই ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভোটদান করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিহার সহ ৮টি বিধানসভার উপনির্বাচন ক্ষেত্রগুলিতে ১০০ শতাংশ ভোটারের ‘ ইলেকটরস ফটো আইডেন্টিটি কার্ড’ (EPIC) রয়েছে। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যে সমস্ত যোগ্য ভোটারের নাম নথিভুক্ত রয়েছে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটের বুথে যদি তাঁরা এই নির্দিষ্ট সচিত্র ভোটার কার্ড না নিয়ে গেলেও আরও ১২ টি পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এই ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্র হল—
১) আধার কার্ড
২) ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জব কার্ড
৩) ব্যাংক অথবা পোস্ট অফিসের সচিত্র পাসবুক
৪) ভারতীয় পাসপোর্ট
৫) ড্রাইভিং লাইসেন্স
৬) আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য কার্ড অথবা কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের ইস্যু করা স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত স্মার্ট কার্ড
৭) প্যান কার্ড
৮) জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জির অন্তর্ভুক্ত জাতীয় রেজিস্ট্রার জেনারেলের ইস্যু করা স্মার্ট কার্ড
৯) সচিত্র পেনশন ডকুমেন্ট
১০) কেন্দ্র বা রাজ্য অথবা সরকারি কোম্পানিগুলির ইস্যু করা সার্ভিস আইডেন্টিটি কার্ড
১১) সাংসদ অথবা বিধায়কদের ইস্যু করা অফিসিয়াল আইডেন্টিটি কার্ড
১২) কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইস্যু করা ইউনিক ডিসেবিলিটি আইডি (UDID) কার্ড
———-
উপরোক্ত এই ১২টি বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তখনই ভোট দেওয়া যাবে যখন ওই ভোটার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যোগ্য ভোটার হিসেবে বিবেচিত হবেন অর্থাৎ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে এ কথা বারবার উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস অনুযায়ী এপিক কার্ড বা ভোটার কার্ড ভোটের বুঝে একজন যোগ্য ভোটারের চিহ্নিতকরণের কাজের জন্যই ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রে যদি কোন ভোটার এই সচিত্র ভোটার কার্ড না নিয়ে ভোট দিতে চান তখন বিকল্প হিসেবে ১২ টি অনুরূপ পরিচয় পত্র দেখিয়ে তিনি ভোট দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকরা ভোটের বুথে সেই পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখে ভোটদানে অনুমতি দেবেন।

