রাজ্যে ইআরও নিয়োগেও কমিশনের বিধি অমান্য, উপযুক্ত পদক্ষেপ চেয়ে সিইও-কে চিঠি ক্ষুব্ধ কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বিএলও-র পর এবার ইআরও নিয়োগ নিয়েও সংঘাতে রাজ্য-কমিশন। সরকারি কর্মী ছাড়া কাউকে যেমন বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না তেমনি এসডিও বা মহকুমাশাসক অথবা এসডিএম বা সাবডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট পদের আধিকারিকের নিচে কাউকে ইআরও হিসেবে নিযুক্ত করা যাবে না। আর এখানেই ঘটেছে বিপত্তি। রাজ্যে ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৫২ টি কেন্দ্রে এসডিও বা মহকুমাশাসক পদমর্যাদার অথবা সমতুল পদের আধিকারিকদের অধস্তন কর্মীদের ইআরও হিসেবে নিযুক্ত করেছে রাজ্য প্রশাসন। কমিশনের গাইডলাইন অমান্য করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুদায়িত্ব যাঁরা পালন করেন সেই ইআরও হিসেবে অধস্তন কর্মীদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতেন নারাজ নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চিঠির প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-কেও। অবিলম্বে যাতে এই ১৫২ বিধানসভা কেন্দ্রে এসডিও অথবা এইচডিএম পদমর্যাদার আধিকারিকদের ই আর ও হিসেবে নিযুক্ত করা হয় সে ব্যাপারে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সিইও-কেই। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী ও সিইও দ্বৈরথের মধ্যেই নয়া বিপত্তির জট খুলতে সিইও-কেই দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন।
সিইও কে দেওয়া চিঠিতে কমিশনের অবর সচিব উল্লেখ করেছেন কমিশনের শীর্ষকর্তাদের নির্দেশক্রমে কমিশনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই
ইআরও-দের নিয়োগ করতে হবে। চিঠিতে জানানো হয়েছে যে ৬৮ টি বিধানসভা কেন্দ্রে নিযম মেনে এসডিএম বা এসডিওদের ইআরও হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। ৭৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে এস বি ও বা এসডিএম পর্যায়ের সমতল অন্যান্য আধিকারিকদের ইআরও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়াও চিঠিতে জানানো হয়েছে যে ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই এসডিও বা এসডিএম পদের নিচে থাকা আধিকারিকদের ইআরও করা হয়েছে। যার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্বাচন কমিশনের মানদণ্ড মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এব্যপারে রাজ্যের সিইও বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দ্রুত কমিশনের গাইডলাইন মেনে ইআরও নিয়োগ করার জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দু’দিন আগেই একই অভিযোগ নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন।

