বিএলও-দের কাজের ভার লাঘব করতে কমিশনকে চিঠি সিইও দপ্তরের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
খসড়া ভোটার তালিকাকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে বিএলও-দের কাজের ভার লাঘব করতে চাইছে রাজ্য সিইও দপ্তর। এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহের পর তা ডিজিটাইজ করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে বিএলও-দের। তাই বিএলও দের কাজের সুবিধার জন্য বিএলও অ্যাপ এর লগইন আইডি ইআরও ,এইআরও এবং সহকারি বিএলও-দের দেওয়া হোক এই আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল রাজ্য সিইও দপ্তর।
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন বি এল ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা পত্র সংগ্রহের পর সেই গণনাপত্রকে ডিজিটাইজড করবেন। অর্থাৎ একজন ভোটার গণনাপত্র ফিলাপ করে দেওয়ার পর সেই তথ্য বিএলও অ্যাপে পুঙ্খানুপুঙ্খ লিপিবদ্ধ করতে হবে বিএলওকে। সেক্ষেত্রে ভোটারের নাম তার অভিভাবকের নাম ঠিকানা সবকিছুই নির্ভুলভাবে লেখার ডাই নিতে হবে বিএলওকেই। এরপর গোটা ফম স্ক্যান করতে হবে ডিজিটাইজেশনের জন্য। সর্বোপরি, গণনা পাত্রের সঙ্গে ভোটারের যে ছবি থাকবে সেই ছবি বিএলও অ্যাপে নির্ধারিত ফটোর জন্য যে মাপের জায়গা রয়েছে সেই মাপ অনুযায়ী ছবিটিকে ডিজিটাইজড ফরমেটে তৈরি করতে হবে। একেকটি গণনা পত্রের জন্য এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সিইও দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্তা। উল্লেখযোগ্য, একজন বিএলও কে হাজার থেকে বারোশো ভোটারের ফরম ডিজিটাইজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে এই গণনা পত্র জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমাও রয়েছে। ফলে তাড়াহুড়ো করে গণনাপত্র বা ডিজিটাইজড করার জন্য ভুলের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কমিশনের কর্তারাই। তাই বিএলও-দের উপর থেকে কাজের চাপ কমাতে বিএলও অ্যাপ-এর লগইন আইডি ইআরও, এইআরও, এবং সহকারি বিএলও-দের দেওয়ার জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে রাজ্যের সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসেই ভোটারদের গণনা পত্র সংগ্রহ করা এবং তা ডিজিটাইজড করে ইআরওনেট-এর মাধ্যমে কমিশনের কাছে জমা করতে হবে বিএলও-দের। আগামী ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে সিইও দপ্তরকে। আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৯৮% গণনাপত্র সংগ্রহের কাজ শেষ করেছেন বিএলও-রা। দফায় দফায় বেশ কিছু গণনা পত্র ডিজিটাইজড করার কাজও শুরু করেছেন বিএলও-রা। আর এই কাজ করতে গিয়েই বিপাকে পড়ছেন তারা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সিইও দপ্তরে বিএলও-দের এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ডিইও-রা। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সিইও দপ্তর। পদস্থ আধিকারিকের কথায় ” বিহারের এসআইআর-এ এতটা জটিলতা ছিল না। সেখানে আলাদা করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই দায়িত্ব শুধুমাত্র বিএলও-দের দেওয়া হয়েছে। তাই সমস্যাও বেড়েছে। ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ভাবে তৈরি করতে এই সমস্যার সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে কমিশনকে।”

