হেডলাইন

বঙ্গে রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ছাব্বিশের ‘ ভোটের মহড়া ‘ ২১ নভেম্বর

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

দুদিন পরেই ভোটের মহড়া। তারই প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সিইও দপ্তরে। জোরকদমে চলছে ইভিএম চেকিংয়ের কাজ।

বিহারের নির্বাচনী পর্ব শেষে এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দামামা বেজেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসআইআর পর্ব মধ্যগগনে। রাজ্যের ৮০ হাজার ৬৮১ বুথ ছাব্বিশের নির্বাচনে বেড়ে হতে চলেছে প্রায় ৯৫ হাজার। ছাব্বিশের নির্বাচনে এই ৯৫ হাজার বুথে ৩০ শতাংশ রিজার্ভ সহ ব্যালট ইউনিট ও কন্ট্রোল ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ইভিএম প্রয়োজন। সঙ্গে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভিভিপ্যাটও। এই যাবতীয় উপকরণ এই মুহুর্তে রাজ্যের সিইও দপ্তরের হাতে রয়েছে। এসআইআর থেকে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে রাজ্যে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে ছাব্বিশে নির্বাচনমুখী পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সেই পশ্চিমবঙ্গে আগেভাগেই ইভিএম পরীক্ষার কাজ সেরে ফেলতে চায় কমিশন। আগামী ২১ নভেম্বর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ইভিএম-এর ফার্স্ট লেভেল চেকিং করতে গিয়ে ভোটের মহড়া করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে পৌঁছেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্ঞানেশ ভারতী সহ কমিশনের অন্যান্য শীর্ষ পদাধিকারীরা। ২১ নভেম্বর নিউটাউনের ইকো পার্ক সংলগ্ন ব্যাঙ্কয়েটে ভোটের মহড়া অনুষ্ঠিত হবে যেখানে কমিশনের শীর্ষ পদাধিকারীরা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের স্বীকৃত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। ইভিএম সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সচেতন করার কাজও হবে সেই মহড়ায়। প্রতিটি জেলার ইভিএম অফিসার এবং ওয়ারহাউস অফিসারদের উপস্থিতিতে প্রশিক্ষণ দেবেন বেঙ্গালুরুর ইসিআইএল-এর ( ইভিএম নির্মাতা সংস্থা) ইঞ্জিনিয়ার ও কমিশনের ইভিএম পর্যবেক্ষকরা ।

কি হবে ইভিএমের মহড়া ভোটে? প্রতিটি ইভিএমে নোটা সহ ছয়টি করে বাটন থাকে। একটি ইভিএমের প্রতিটি বাটনে ১৬টি করে মোট ৯৬ বার ভোটদান করা হবে রাজনৈতিক প্রতিনিধি থেকে কমিশন ও প্রশাসনিক কর্মীদের সামনেই। পড়ুক করে দেখা হবে যে ইভিএমের বাটন গুলি যথাযথভাবে কাজ করছে কিনা অথবা ইভিএম এর ডিসপ্লেতে শূন্য থেকে শুরু হচ্ছে কিনা। নির্বাচন কমিশনের নয়া নিয়ম অনুযায়ী এবার ইভিএমে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিটি প্রার্থীর দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ছবিও থাকবে। কোথায় কিভাবে সেই ছবি থাকবে বা সেগুলি ইভিএম এর বাটনের পাশে নির্ধারিত কোন জায়গায় লাগানো হবে তাও দেখিয়ে দেওয়া হবে বি ও এবং জেলার ইভিএম অফিসারদের। জেলায় ফিরে গিয়ে ঠিক একইভাবে জেলায় জেলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ সালার উদ্যোগ নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক তথা ডিইও। এভাবেই রাজ্যজুড়ে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটের মহড়া বা ইভিএম প্রশিক্ষণের প্রাথমিক পর্ব শেষ হবে। যেহেতু ইভিএমগুলি বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে কাজে লাগানো হয় সেক্ষেত্রে ইভিএমগুলি যথাযথ অবস্থায় রয়েছে কিনা, ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট যথাযথভাবে কাজ করছে কিনা একইসঙ্গে ভিভিপ্যাটের কাগজ ও ছবি ঠিকমতো ডিসপ্লে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন থাকে। যেকোনো নির্বাচন পরিচালনার আগে ইভিএম এর সঠিক কার্যকারিতা যাচাই করে নেওয়া হয় ভোট শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। ইভিএমের এই ফার্স্ট লেভেল চেকিং যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিক সচেতন রাজ্যে যেখানে বারংবার ইভিএম এর কার্যকারিতা নিয়ে কমিশনকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাজনৈতিক দল থেকে সাধারণ ভোটারদের কাছেও। এমনিতেই কমিশন-রাজ্য এসআইআর নিয়ে নানা চাপানউতোর ও রাজনৈতিক বিতর্ক জারি রয়েছে । তারমধ্যে ইভিএম কার্যকারিতা আরও একটি অন্যতম ইস্যু হতে পারে নির্বাচনের প্রাক্কালে অথবা নির্বাচন চলাকালীন। একথা মাথায় রেখেই পশ্চিমবঙ্গে ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিং-এর কাজ আগে থেকেই সেরে ফেলতে চায় কমিশন। আগামী ২১ নভেম্বর ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিং এর মাধ্যমে ভোটের মহড়া আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Share with