সোনাগাছির ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চান সিইও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
তৃতীয় লিঙ্গ থেকে যৌনকর্মী। ২৬ এর নির্বাচনে যাতে সকলেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে ব্যাপারে বাড়তি নজর দিচ্ছে সিইও দপ্তর। প্রয়োজনে যৌনপল্লির ভোটারদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প বা স্পেশাল ড্রাইভের ব্যবস্থা করতে চায় সিইও দপ্তর।
মূলত, এই ধরনের ভোটারদের ক্ষেত্রে তাঁদের পিতৃ পরিচয় অথবা পূর্বপুরুষদের পরিচয় নিয়ে নানা রকমের জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে যৌনকর্মীদের সন্তান
যারা নতুন প্রজন্মের ভোটার, অর্থাৎ যারা সদ্য ১৮ এর গণ্ডি পেরিয়েছে, তাদের ভোটার কার্ড করার ক্ষেত্রে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নানান জটিলতা রয়েছে। এমনকি যথাযথ নাম গোত্রহীন বহু যৌনকর্মীর ক্ষেত্রেও পিতৃপরিচয় বা পূর্বপুরুষদের পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এমন বহু ভোটার এই যৌনপল্লীতে রয়েছেন যারা তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে চান। নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত এস আই আর প্রক্রিয়ায় তাদের ভোটদানের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তব সমস্যার মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাহলে কি ছাব্বিশের নির্বাচনে এধরনের প্রায় কয়েক হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে বঞ্চিত হবেন?
যদিও তৃতীয় লিঙ্গ অথবা যৌনকর্মী বা তাদের সন্তান-সন্ততিদের ভোটাধিকার কোনোমতেই ক্ষুন্ন হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। ” পিতৃ পরিচয় না থাকলে বা পুর্ব-পুরুষদের পরিচয় জানা না থাকলেও শুধু মায়ের পরিচয়ে যৌনপল্লির নতুন প্রজন্মের ভোটারদের ভোটার কার্ড দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে এক্ষেত্রে স্পেশাল কেস ধরা হবে। “প্রয়োজনে নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিশেষ ক্যাম্প করে এই ভোটারদের ভোটাধিকার দেওয়া হবে” জানিয়েছেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল।
মূলত, উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো বিধানসভার অন্তর্গত সোনাগাছি যৌনপল্লীতে প্রায় সাত হাজার এধরনের ভোটার রয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেরই এখনও পর্যন্ত ভোটার কার্ড নেই। অথবা ভোটার কার্ড থাকলেও তাদের বাবা-মা অথবা পূর্বপুরুষদের কোন পরিচয় যেমন নেই তেমনি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাদের নামও নেই। তার থেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সদ্য ১৮ পেরোনো নতুন প্রজন্মের ভোটার যারা নতুনভাবে ২৬ এর নির্বাচনে ভোটার হতে আগ্রহী, তাদের পিতৃপরিচয় বা পূর্বপুরুষের পরিচয় নিয়ে জটিলতা থাকায় আদৌ তারা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। সোমবার সোনাগাছির একটি সংগঠন সিইও-র সঙ্গে দেখা করে নানাবিধ সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। সিইও তাদের আশ্বস্ত করেছেন তাঁদের ভোটাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সিইও দপ্তর যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। সিইও যে স্পেশাল ড্রাইভ বা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তার জন্য সোনাগাছি এলাকার প্রতিটি পার্টে সংশ্লিষ্ট বিএলওদের নিয়ে ক্যাম্প করা হবে। সেই ক্যাম্পেই গণনাপত্র পূরণের মাধ্যমে সরাসরি হিয়ারিং এর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ইআরও দের সেখানে পাঠানো হতে পারে। প্রয়োজনে সিইও নিজেই ওই ক্যাম্পে ভিজিট করবেন বলেও জানিয়েছেন। ২০০৭ সালে তৎকালীন সিইও দেবাশিস সেন সোনাগাছির যৌনপল্লীর ভোটারদের জন্য ভোটার কার্ড ইস্যু করার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। ২০১০ এর কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় বিশেষ ড্রাইভের মাধ্যমে সোনাগাছিযোগ্য ভোটারদের ভোটার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয। যদিও ২০০২ সালের ভিত্তি বর্ষের এসআইআর পর্বে যৌনকর্মী ভোটারদের ভোটার কার্ড ছিল না বললেই চলে। আর সেখানেই এবারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেধেছে বিপত্তি। সোনাগাছির যৌনকর্মীদের মধ্যে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে যাদের ঘরের মাটি ছাড়া দূর্গাপুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায় তাদের ভোটাধিকার অক্ষুন্ন রাখতে প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের কথাও ভাবছে সিইও দপ্তর।

