ভোটদানের মতই এনুমারেশনেও শহুরে অনীহা কলকাতার, চিন্তা কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আরবান অ্যাপাথি বা শহুরে অনীহা , ভোটদান থেকে এসআইআর প্রক্রিয়াতেও একই ট্র্যাডিশন বজায় রাখল শহর কলকাতা। আকাশচুম্বী বহুতল হোক বা হেরিটেজ বাড়ির বাসিন্দা, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটদানে যেমন শহারের অনীহা তেমনি এসআইআর প্রক্রিয়াতেও সবার পিছনে থেকে গতিহীন তিলোত্তমা কলকাতাই। এক্ষেয্রেও অনীহার দৌড়ে এগিয়ে উত্তর কলকাতাই। খোদ সিইও দপ্তর যে নির্বাচনী জেলায় অবস্থিত সেই কলকাতা উত্তরের এই পারফরম্যান্স অস্বস্তি বাড়িয়েছে সিইও দপ্তরের।
কমিশন সূত্রে খবর, ২৩ বছর পর রাজ্যে হওয়া এসআইআরের কাজে বুথ লেভেল অফিসাররা এনুমারেশন ফর্ম আপলোড এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ সিংহভাগেরও বেশি ইতিমধ্যেই শেষ করে ফেলেছেন তখন রাজ্যের মোট ২৪টি নির্বাচনী জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে কলকাতার দুই নির্বাচনী জেলা। উত্তর কলকাতায এই কাজ এখনও পর্যন্ত ৫০ শতাংশ সম্পূর্ণ হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতায় যা হয়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। হাতে মাত্র আর কটা দিন তারপরেই শেষ হয়ে যাবে ২০২৫ সালের এসআইআরের কাজ। আর শহর কলকাতার এই শ্লথগতি নিয়ে চিন্তিত সিইও দপ্তরের কর্তারাও। যদিও শহরাঞ্চলে আনকালেক্টেবল ফর্ম বা নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়াও শ্লথগতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সিইও দপ্তরের পদস্থ কর্তারা।
সূত্রের খবর, গোটা রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ বুথ লেভেল অফিসারেরা কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছে।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালিম্পঙ প্রায় ৮০% , হাওড়া ৭০%, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর ৮৫%.,পুরুলিয়া ৮৫%, বাঁকুড়া ৮৫%, পূর্ব বর্ধমান ৮৯%, ঝাড়গ্রাম ৮৭%, পশ্চিম বর্ধমান ৭০% এস আই আরের কাজ সম্পূর্ণ করেছে। তবে উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার পাশাপাশি উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় যে শ্লথগতিতে কাজ এগোচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।
যেসব জেলায় বুথ লেভেল অফিসারেরা নিজেদের কাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছেন সেখানে ডিইওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের কাজে সাহায্য করে দ্রুততার সঙ্গে আপলোড এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ করার জন্য। যদিও পদস্থ এক কর্তার মতে , চলতি মাসের মধ্যেই এনুমারেশন ফর্ম আপলোড এবং ডিজিটাইজেশনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে বিএলও দের অ্যাপে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কজে দেরি হচ্ছে একথাও মানছে সিইও দপ্তর। ইতিমধ্যেই এই সমস্যার কথা কমিশনকে সবিস্তারে জানিয়েছেন সিইও। তবে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাই এখন মূল লক্ষ্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তরের।

