হেডলাইন

কমিশনের সবুজ সংকেতে নতুন বছরে নতুন ঠিকানায় সিইও দপ্তর?

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নতুন বছরে নতুনভাবে পথ চলা।
সবকিছু ঠিকঠাক চললে নতুন বছরের শুরুতেই ঠিকানা বদল। আগামী জানুয়ারি মাসেই কলকাতার গঙ্গাতীরে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের দপ্তরের ভবনে স্থানান্তরিত হতে চলেছে রাজ্যের সিইও দপ্তর বলে কমিশন সূত্রে খবর। বর্তমানে বিবাদীবাগের নেতাজি সুভাষ রোডের অফিসে মূলত স্থানাভাব, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার অভাব সর্বোপরি নিরাপত্তার গলদ রয়েছে বলে কমিশন মারফত জানানো হয়েছে। বিএলও ইস্যুতে সিইও দপ্তরের মধ্যেই সাম্প্রতিক ধর্না-বিক্ষোভের ঘটনা বর্তমান ঠিকানায় সিইওসহ পদস্থ আধিকারিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার কে সিইও দপ্তরে নিরাপত্ত ার গলদ নিয়েও সতর্ক করেছে কমিশন। সিইও দপ্তর জানিয়েছে, সম্প্রতি বর্তমান সিইও দপ্তরে যেভাবে নিরাপত্তার নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন সামনে এসেছে তার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সিইও দপ্তরকে নিরাপদ বা সুরক্ষিত জায়গায় স্থানান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে। সেই মোতাবেক গত দুদিন ধরে সিইও দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কলকাতার গঙ্গা তিরোপট্টি ট্রেন্ড রোডের কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের অধীন শিপিং কর্পোরেশনের ভবনে ফাঁকা দুটি ফ্লোর ফের পর্যবেক্ষণ করেন। যেহেতু এসআইআর পর্ব এখন মাঝপথে তাই প্রযুক্তিগত বিষয়টি মাথায় রেখে যথাযথ ভাবে যাবতীয় সিস্টেম নতুন ভবনে কিভাবে প্রতিস্থাপিত করা যাবে তা নিয়েও একটি প্রাথমিক পরিদর্শন করেন বিশেষজ্ঞরাও। দপ্তরের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের অধীনস্থ এই ভবনটি নির্বাচন কমিশনের পছন্দ হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও কোনও আপত্তি নেই। কমিশন প্রাথমিকভাবে স্থানান্তরের বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথাবার্তায় সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে আর্থিক বিষয়টি যেহেতু রাজ্য সরকারের এখতিয়ার ভুক্ত সেই ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন প্রস্তাবিত সিইও দফতরের আর্থিক স্বক্ষমতার প্রশ্নে ঠাঁই দিয়েছে রাজ্য সরকার। সিইও নিজস্ব ক্ষমতা বলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিজেই খরচ করতে পারবেন সেক্ষেত্রে অর্থ দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সবমিলিয়ে এই আর্থিক স্বক্ষমতা প্রদান ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে রেখে এসআইআরের মত বড় কর্মযজ্ঞে সুরক্ষিত এবং আরো বড় পরিসরে দপ্তরকে স্থানান্তরিত করতে চায় সিইও দপ্তর। আপাতত সেই পথ চলায় সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলে খবর।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই সিইও দপ্তর স্থানান্তরের বিষয়টি চর্চায় আসে। রাজ্যে এসআইআর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন ও এস আই আর এই দুইয়ের চাপে যে বিশাল কর্মযজ্ঞের আয়োজন করতে হবে তা বুঝে নেতাজি সুভাষ রোডের বর্তমান সিইও দফতরকে আরও বড় পরিসরে নতুন ঠিকানায় নিয়ে যেতে উদ্যোগী হন সিইও। নেতাজী সুভাষ রোডের বর্তমান সিইও দফতরে যেমন যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নেই তেমনি দপ্তরের নিজস্ব গাড়ি পার্কিংয়ের যথাযথ বন্দোবস্ত নেই। তার উপর নির্বাচন পর্ব শুরুর আগে বিভিন্ন ভিভিআইপি দপ্তরে এলে তাদের গাড়ি ও সঙ্গে আসা নিরাপত্তারক্ষী সহ অন্যান্যদের জন্য পৃথক বন্দোবস্ত করার মতো কোনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। সে কথা মাথায় রেখেই নতুন ঠিকানা খুঁজতে উদ্যোগী হয় সিইও দপ্তর। জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্য সচিব কে ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। প্রাথমিকভাবে বিবাদীবাগে কলকাতা টেলিফোন এর সদর দপ্তরের ভবনে ঘর দেখার কাজ শুরু হয়।
এরপর পার্ক স্ট্রিট লাগোয়া হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটের বিএসএনএল ভবনে অফিস স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা পরবর্তীতে মনোনীত হয়নি দপ্তরের আধিকারিকদের। এরই ফাঁকে গঙ্গা তীরবর্তী স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে দুটি ফাঁকা ফ্লোরের খোঁজ পায় সিইও দপ্তর। সেই মোতাবেক পরিদর্শন করেন সিইও দপ্তরের আধিকারিকরা। সমস্ত আধিকারিকদের পরামর্শ এবং পছন্দ বুঝে প্রিয় নিজে শিপিং কর্পোরেশনের অফিস পরিদর্শন করেন এবং এই ঠিকানায় সিইও দপ্তরকে স্থানান্তরিত করার জন্য রাজ্য সরকারকে ফের চিঠি লেখেন সিইও। কারণ দপ্তর স্থানান্তর করা থেকে তার জন্য যে আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন তা রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরকে অনুমোদন দিতে হয়। একাধিকবার অনুরোধ জানানোর পরেও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের অনুমোদন না মেলায় গোটা উদ্যোগ থমকে যায়। এস আই আর পর্ব মিটটেই শুরু হবে বিপুল কর্মযজ্ঞ অর্থাৎ রাজ্যের ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের আবেদন স্ক্রুটিনি করার কাজ। একইসঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের রেকর্ড রাখতে হবে সিইও দপ্তরকে যার জন্য প্রয়োজন প্রচুর কর্মী এবং আরও বেশি জায়গা। বর্তমান সিইও দপ্তরে যার বড়ই অভাব। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গঙ্গা তীরবর্তী শিপিং কর্পোরেশনের অফিসে রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। সঙ্গে ছিলেন কমিশনের অন্যান্য পদাধিকারী সহ সিইও দপ্তরের সমস্ত আধিকারিকরাও। প্রাথমিকভাবে শিপিং কর্পোরেশনের অফিসটি পরিদর্শনের পর গঙ্গা তীরবর্তী মনোরম পরিবেশ এবং প্রশস্ত জায়গা সহ গাড়ি পার্কিংয়ের পৃথক বন্দোবস্ত এবং পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ ভারতী। এরপর নেতাজি সুভাষ রোডের বর্তমান সিইও দপ্তরের মধ্যে বিএলও ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলের উদ্যোগে ধর্না-অবস্থান ও বিক্ষোভের জিরি নিরাপত্তার প্রশ্নটি অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর সবকিছুকে মাথায় রাখি এবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের সিইও দপ্তর নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

Share with