বাংলার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো, ১২ রাজ্যে এসআইআর পিছোল কমিশন
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গ পারলেও পারেনি বিজেপি শাসিত বড় রাজ্যগুলি। তার জেরেই ১২ রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া ৭ দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হল। নয়া সূচি অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২ রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর। তদ অনুযায়ী ক্লেমস এন্ড অবজেকশন পর্ব ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ খসড়া ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন অথবা বিয়োজন বা অন্যান্য পরিবর্তন এই সময়কালের মধ্যে করতে পারবেন যোগ্য ভোটাররা। এনুমারেশন ফর্ম পুরান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইআরও-রা প্রয়োজনে ভোটারদের হিয়ারিং এ ডেকে পাঠাবেন বা নোটিশ পাঠানোর সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ভোট বুথের পুনরবিন্যাসের কাজ করা হবে ১১ ডিসেম্বর এবং খসড়া ভোটার তালিকার প্রস্তুতির কাজ চলবে ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য যাবতীয় খসড়া ভোটার তালিকার চূড়ান্ত পর্বের স্ক্রুটিনি করা হবে। ২৬ এ নির্বাচন মুখী ৫ রাজ্য সহ ১২ রাজ্যের জন্য চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
প্রসঙ্গত গত ৪ নভেম্বর থেকে নির্বাচনমুখী পাঁচ রাজ্য সহ মোট বারো রাজ্যে এস আই আর প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং আগামী 9 ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রাখে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে এস আই আর নিয়ে এ রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চরম হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক বিরোধিতা থেকে প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগে উত্তেজনার পাড়া এতটাই যে রাজ্য সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয় নির্বাচন কমিশনকে। অথচ এই যাবতীয় চাপান উতোর সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া থমকে থাকেনি। বিজেপি শাসিত বড় রাজ্যগুলির মধ্যে একমাত্র রাজস্থান পাল্লা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। দুটি রাজ্যেই এস আই আর প্রক্রিয়ায় গণনা পত্র বিলি এবং তা ডিজিটাইজেশন এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। গুজরাট মধ্যপ্রদেশ ছত্তিশগড় ও তামিলনাড়ু যথেষ্ট পিছিয়ে। কেরালার পাশাপাশি সবচেয়ে পিছিয়ে যোগীরাজ্য উত্তর প্রদেশ। যোগীরাজ্যে মাত্র ৬০% কাজ এখনো পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। আর কেন্দ্রীয় শাসক দলের অধীনে থাকা রাজ্যগুলির এই শ্লথগতির কারণে ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যপূরণ নিয়ে কপালে ভাজ পড়েছে নির্বাচন কমিশনের। যেহেতু একটি বা দুটি রাজ্যের জন্য আলাদা করে কোন নিয়ম নয় একসঙ্গে বারটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্যই এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কথা। বারো রাজ্যেই ( কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসহ) সাত দিনের জন্য সমগ্র এসআইআর প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি যত বিরোধিতাই থাকুক না কেন নির্বাচনী গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের ভোটদানের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় পথপ্রদর্শক এর ভূমিকায় যে তারাই তা ফের একবার প্রমাণ করল বাংলা।

