দ্বিতীয়বারের চেষ্টাও ব্যর্থ, বহুতল আবাসনে ভোট বুথের পরিকল্পনা ভেস্তে গেল
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
একাধিকবার উদ্যোগী হয়েও শহুরে অনীহা বা আরবান অ্যাপাথি দূর করতে পারল না নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রশ্ন তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে চিঠি দিয়েছিলেন তখনই বিষয়টা স্পষ্ট হয়েছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্য হলো। রাজ্যের শহরাঞ্চলের বহুতলের বাসিন্দাদের ভোটদানে অংশগ্রহণ বাড়াতে আবাসন কমপ্লেক্স গুলোর মধ্যেই ভোটের বুট তৈরির যে আবেদন জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয়বারেও সেই প্রচেষ্টা বিফলে গেল। অর্থাৎ আকাশচুম্বী বহুতলের বাসিন্দাদের মাটির মানুষের সঙ্গে ভোটের লাইনে দাঁড় করানোর যে স্বপ্ন নির্বাচন কমিশন দেখেছিল তা বাস্তবে মাটিতেই মিশে গেল। সোমবারই ছিল কমিশনের আবেদনের সারা দেওয়ার শেষ দিন। অথচ শহর কলকাতা সহ শহরাঞ্চলের কোন বহু দল থেকেই নিজস্ব কমপ্লেক্সে ভোটের বুথ করার জন্য কমিশনের আবেদনে সাড়া দিলেন না কেউই।
গত সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের জন্য রাজ্যের শহর ও শহরাঞ্চলের বহু দলগুলোতে ভোটের বুথ তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তদন অনুযায় ী রাজ্য সিইও দপ্তর কলকাতা হাওড়া হুগলি ২ ২৪ পরগনা আসানসোল দুর্গাপুর শিলিগুড়ি খড়গপুর সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন আকাশচুম্বি আবাসন কর্তৃপক্ষ গুলোর কাছে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের মাধ্যমে আবেদন জানলেও শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা চারটি আবাসন কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কেউ সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি। এরপর রাজ্যে এসআইআর পর্ব চালু হওয়ার পর যখন দেখা যায় নির্বাচনী গণনা পত্র বিনি এবং ডিজিটাইজেশনের কাজে দুই কলকাতা সহ-সরাঞ্চল পিছিয়ে তখন ফের উপরতলার মানুষকে নিচুতলার মানুষের সঙ্গে দাঁড় করাতে যাতে সমস্যা না হয় তাই তাঁদের নিজস্ব আবাসন কমপ্লেক্সে ভোটের বুথ তৈরির জন্য আবেদন জানানো হয়। দ্বিতীয়বার বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে এই কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। প্রাথমিকভাবে জেলাগুলির পক্ষ থেকে জোর কদমে উদ্যোগ নেয়া হলেও সেভাবে ফল মেলেনি। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উপর্যুপরি দুটি চিঠি দেন। আই আর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আবেদনের পাশাপাশি বেসরকারি বহুদল আবাসন গুলোতে ভোটের ভুত কেন করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ? এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নিজের তৈরি নিয়ম নিজেই ভাঙছে বলেও অভিযোগ জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বহুতল আবাসন গুলোতে যাতে ভোটের ভূত না করা হয় তারও আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনের মত সংবেদনশীল বিষয়ে আবাসনগুলির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য চিন্তায় ফেলে কমিশনকেও। যেহেতু আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি রাজ্যের দায়িত্ব সেইহেতু মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি কার্যত কমিশনের এই উদ্যোগকে প্রশ্ন চিহ্নের সামনে ঠেলে দেয় । এরপরেই আকাশচুম্বি বহুতলে ভোটের বুথ তৈরির উদ্যোগ যে কার্যত বিফলে যেতে চলেছে তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছিল। প্রথমবারের আবেদনে চারটি আবাসন থেকে সম্মতি মিললেও দ্বিতীয়বারে তা দুটি আবাসনে নেমে দাঁড়ায়। আর সেখানেই আকাশ কুসুম কল্পনাকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় কমিশনের। সোমবার পর্যন্ত আবেদনের শেষ দিন ধার্য করা হলেও ইতিমধ্যেই সিইও দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে বহুতল আবাসনে ভোটের বুথ করার পরিকল্পনা বাতিল করা হল। শহর এলাকায় ভোটদানের হার বাড়াতে কমিশন যে উদ্যোগ নিয়েছিল ‘ আরবান অ্যাপাথি ‘ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন সেই উদ্যোগে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ালো বলেই মনে করছেন কমিশনের কর্তারা।

