রাতারাতি ‘দাস’ থেকে ‘কর্মকার’, পদবি বিভ্রাটে যাচাই গোটা গ্রামকেই
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
এ যেন উত্তম-ভানুর ‘ভ্রান্তিবিলাস’ সিনেমার রিপিট টেলিকাস্ট। পদবী বিভ্রাটের জেরে একটা গোটা গ্রাম বা বুথ এলাকার ভোটার এখন কমিশনের স্ক্যানারে। বিএলও তাঁদের বাড়িতে গিয়ে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ইআরও-কে দেবেন। ইআরও প্রমাণপত্র খতিয়ে দেখে সংশোধনের ব্যবস্থা করবেন। ঘটনা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নন্দীপাড়া-যমুনাপাড়া পাওয়ার হাউস রোড এলকার।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালে বিষ্ণুপুর বিধানসভার ১২৬ নম্বর বুথ এলাকার এই অংশের বাসিন্দারা অনেকেই দাস পদবী ব্যবহার করতেন। দশ বছর পর অর্থাৎ ২০১২ সালে এই এলাকার বড় অংশের মানুষ জানতে পারেন তাদের পূর্বপুরুষদের আসল পদবী ছিল কর্মকার। আর পারিবারিক বা বংশ পরম্পরা এর ঐতিহ্য বজায় রাখতে রাতারাতি ২০১২ সালে আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে এই দাস বংশরা পরিণত হলো কর্মকার। হঠাৎ অনেকটা বিড়াল থেকে রুমাল হওয়ার মত ঘটনা। এই পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু গোল বাঁধলো ২৬ এর নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায়। সংশ্লিষ্ট বি এল এদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম দিয়ে আসার পর ২০০২ সালের দাস বংশরা ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা তথ্যের ততদিনে কর্মকারে পরিণত। স্বাভাবিকভাবেই এনুমারেশন ফর্মে 2025 সালের তথ্যে এই ভোটাররা পদবি হিসেবে কর্মকার উল্লেখ করলেও ২০০২ সালের তথ্যে তখনকার ভোটার তালিকায় উল্লিখিত ভোটারে নিজের নাম এবং তার পূর্বপুরুষের নামের পাশে দাস পদবী লিপিবদ্ধ করেছেন। এস আই আর প্রাথমিক পর্ব শেষে যখন নির্বাচনীকর্তারা এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন তখন এই বিড়াল থেকে রুমাল হওয়ার ঘটনা তাঁদের নজরে আসে তৎক্ষণাৎ পদস্থ আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট ইআরও থেকে বিএলও পর্যন্ত যোগাযোগ করে বিষয়টির তথ্য অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। তখনই জানা যায়, বিষ্ণুপুর বিধানসভার এই ১২৬ নম্বর পার্টের একটি বড় অংশের মানুষ এই পদবী বিভ্রাটে আক্রান্ত। স্বাভাবিকভাবেই রোগ যখন ধরা গিয়েছে তখন ওষুধের ব্যবস্থা করা হবেই জানিয়েছেন কমিশনের উচ্চ পদস্থ কর্তারা। পদবী পরিবর্তন করতে গেলে আদালত থেকে এফিডেভিট করাতে হয়। সেই এফিডেভিট দেখতে চান উচ্চপদস্থ কর্তারা। কি কারণে পদবি পরিবর্তন ? পদবী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আইনগত পদ্ধতি সঠিকভাবে মান্যতা পেয়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে চান আধিকারিকরা। আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে এসআইআর পরবর্তী হিয়ারিং বা তলব পর্ব শুরু হওয়ার কথা। জানা গেছে, বিষ্ণুপুর বিধানসভার ১২৬ নম্বর পার্টের নন্দীপাড়া-যমুনাপাড়া বুথ এলাকার ওই পদবি পরিবর্তনকারী পরিবার বা ভোটারদের তলব না করা হলেও ইআরও-দের মাধ্যমে নথি পরীক্ষা করবে কমিশন।
শুধু বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর নয়, আরও একটি অদ্ভুত ঘটনার কথা জানিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। হাওড়া একটি এলাকায় একটি পার্টে অধিকাংশ ভোটারের পদবী হল অধিকারী। অথচ ডিজিটাইজেশন এর পর তাদের পদবীর আগে ‘ইয়া’ শব্দটি যুক্ত হয়ে যাওয়ায় ২০০২ সালে তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ‘ মিস ম্যাচ ‘ তৈরি হয়েছে। এই অদ্ভুত ঘটনার মূল কারণ হিসেবে টাইপিং মিসটেক অথবা কম্পিউটার এরর হয়েছে বলেই মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা। সেক্ষেত্রে বিএলও-দের ভুলের থেকেও মেশিনারি এররকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান পদস্থরা। এক্ষেত্রেও সবাইকে হিয়ারিং-এ না ডেকে ইআরও মাধ্যমে যাচাই করে সংশোধন করাতে চায় কমিশন।

