এসআইআরে ওবিসি জট কাটাতে হাইকোর্টের তলিকাতেই মান্যতা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভোটাধিকার পাইয়ে দিতে ওবিসি তালিকার অপব্যবহার রুখতে আদালত নির্দিষ্ট ওবিসি ক্যাটেগরিকেই মান্যতা দিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া কোনও ওবিসি সার্টিফিকেট এসআইআরের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। জেলায় জেলায় ডিইও দের এই মর্মে জানাল নির্বাচন কমিশন। উল্লেখযোগ্য, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত দেওয়া সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছিল হাই কোর্ট। উল্লেখযোগ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ওবিসি তালিকা নিয়ে প্রথমে হাইকোর্ট পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ অংশে স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলা ফেরত পাঠায় হাইকোর্টে। হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে সেই মামলায় রাজ্যের ওবিসি তালিকার মোট ১৪০টি ক্যাটেগরির মধ্যে ৭৬টি ক্যাটেগরিকে বাদ দিয়ে ৬৪টি ক্যাটেগরিকে অনুমোদন দেয়।
এসআইআর পর্বে অবৈধভাবে কিছু সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার দিতে ওবিসি সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু ভোটার হিসেবে পরিগণিত করতে জাতিগত শংসাপত্র নির্বাচন কমিশনের শুনানিপর্বে নথিভুক্ত প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য সেকারণে এই শংসাপত্রেরঅপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ পেয়েই নির্বাচন কমিশন বর্তমানে বৈধ ওবিসি তালিকা চেয়ে রাজ্য সরকারের সংশ্লিস্ট দপ্তরের সচিবকে তলব করে কমিশন। গত সোমবার রাজ্য অনগ্রসর সম্প্রদায় উন্নয়ন দপ্তরের সচিব সিইও দপ্তরে যান এবং কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেন। সেখানেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালত নির্দিষ্ট ওবিসি সম্প্রদায়ের তালিকা কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বুধবার কমিশন জানিয়ে দেয় আদালত দ্বারা নির্দিষ্ট এবং সরকারিভাবে নিবন্ধীকৃত বৈধ ক্যাটেগরির সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কোন ক্যাটেগরির সম্প্রদায়কে ওবিসি সার্টিফিকেট দিতে পারবে না রাজ্য প্রশাসন। বুধবার রাজ্য
সিইও দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা জানান, ওবিসি তালিকার অপব্যবহার নিয়ে কমিশন যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। এবং সেক্ষেত্রে আদালত নির্দিষ্ট তালিকার বাইরে কোনও সম্প্রদায়কে মান্যতা দিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই খোদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবকে তলব করে স্বীকৃত তালিকা নেওয়া হয় এবং তদনুযায়ী সার্টিফিকেট দিতে হবে বলে জেলায় জেলায় প্রতিটি জেলাশাসককে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত , রাজ্যে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন জেলায় ওবিসি সার্টিফিকেটের অপব্যবহার করে মতুয়াদের ভোটাধিকার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মূলত রাজ্যের শাসকদলের মদতেই এই অবৈধ কাজ করা হচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ আসে নির্বাচন কমিশনে। সেকারণেই রাজ্যের অনগ্রসর সম্প্রদায় উন্নয়ন দপ্তরের সচিবের কাছে সরকার আদালত নির্দিষ্ট সরকার নিবন্ধিত তালিকা চেয়ে পাঠায় কমিশন। এবার আদালত নির্দেশিত তালিকা অনুযায়ী শংসাপত্র দিতে হবে বলে জেলায় জেলায় জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।

