হেডলাইন

চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে গড়িমসি, মুখ্যসচিবকে ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন কমিশনের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

মনোজ পন্থের পর এবার নন্দিনী চক্রবর্তী।

ভোটার তালিকা তৈরিতে নির্বাচনী আইন বহির্ভূত কাজে অভিযুক্ত দুই ইআরও এবং দুই এইআরও মোট চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইল নির্বাচন কমিশন। এমনকি কোন পদাধিকারী নির্দেশ কার্যকর করেনি সেই বিষয়েও মুখ্যসচিবকে রিপোর্ট দিতে বলেছে কমিশন। ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে ওই রিপোর্ট কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে মুখ্যসচিবকে।

অস্তিত্বহীন ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে গত ৫ আগস্ট বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভার চার সরকারি আধিকারিক ও একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে সাসপেন্ড করে এফআইআর-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রাজ্য প্রশাসনকে। কিন্তু তা নিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লি অনেক চাপানউতোর হয়। নজিবিহীনভাবে প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে তলব করা হয়। শেষ পর্যন্ত গত ২১ আগস্ট চার সরকারি কর্মীকে সাসপেন্ড করা হলেও এফআইআর আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড করা হয় বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবত্তম দত্ত চৌধুরী এবং একই কেন্দ্রের এইআরও তথাগত মন্ডলকে। সাসপেন্ড করা হয় ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও বিপ্লব সরকার এবং ওই বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও সুদীপ্ত দাস কে।
মনোজ পন্থের অব্সরের পর সরাসরি সংশ্লিষ্ট ডিইওদের এফআইআর করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে চার জনের বিরুদ্ধে নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে তার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট সিইওকে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট ডিইওদের এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। যদিও সেই নির্দেশও এখনও পর্যন্ত কার্যকরী হয়নি।

কমিশনের মতে, ভোটার তালিকায় অস্তিত্বহীন ভোটারদের সরাসরি নাম তোলার অপরাধ ফৌজদারি দন্ডবিধির আওতার মধ্যে পড়ে। এক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট আইনভঙ্গই নয় বরং সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ভারতের জনপ্রতিনিরিত্ব আইনের ১৩ বি ধারা অনুযায়ী এই চার জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধিতে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয় কমিশন। যদিও ঘটনার ৫ মাস পেরোলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দন্ডবিধিতে কোনও পদক্ষেপ করেনি রাজ্য প্রশাসন। এই প্রেক্ষিতে কমিশন রাজ্য সরকারকে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে। কোন দফতর বা কোন আধিকারিক কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করেনি, তার লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে হওয়া বিভাগীয় মামলার সম্পূর্ণ নথি—চার্জশিট, আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য, তদন্ত রিপোর্ট, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও ফাইল নোটিং—সব কিছু জমা দিতে বলা হয়েছে।

মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া শৃঙ্খলাভঙ্গ সংক্রান্ত মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সেই নিয়ম ভঙ্গ করেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নিষ্পত্তি করেছে বলে কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন আধিকারিককে বেকসুর খালাস এবং আরেক জনকে সামান্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, সেই বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। যা কমিশনের ২০২৩ সালের নির্দিষ্ট নির্দেশিকার সরাসরি লঙ্ঘন। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে ‘প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মনে করে কমিশন। কমিশনের মতে, ওই সিদ্ধান্ত আইনত কার্যকর নয় এবং নতুন করে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। সবমিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কমিশন।

Share with