ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণে অনিশ্চয়তা! রাজ্যের কোর্টে বল ঠেলে এক দফায় ভোটের পথে কমিশন?
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
” দশচক্রে ভগবান ভূত “।
নির্বচনী প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকাই যেহেতু ” ভগবান ”
তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ভোটার তালিকার ” ভূতের দশা ” নিয়ে সংশয়ে নির্বাচনী কর্তারাই। ফলে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের মতে ” আমরা যত দ্রুত সম্ভব তালিকা প্রকাশের চেষ্টা করছি। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রাথমিকভাবে বোধগম্য হয়নি। পুরো নির্দেশ হাতে পেলে বোঝা যাবে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করতে পারলে যথাসময়ে নির্বাচন করাই অসম্ভব হবে।” নয়া নির্দেশের ফলে জটিলতা জে বাড়বে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। যাঁর মতে ” আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে যেন মনে হচ্ছে সব পক্ষই মনে করছে তাঁদের জয় হয়েছে। আসলে গোটা প্রক্রিয়াটা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ” বরং সময়ের অভাবে ইআরও দের যাচাইয়ের কাজ শেষে ডিইও এবং সিইও-র কাছে সংযোজন-বিয়োজন ও ভুলভ্রান্তির জন্য আবেদন করার অধিকার থেকে সাধারণ ভোটাররা বঞ্চিত হতে পারেন বলেও সিইও দপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত। তবে সিইও সাফ জানিয়েছেন ” যতক্ষণ স্বচ্ছতার নিরিখে ভোটার তালিকায় সুস্বাস্থ্য মিলবে ততক্ষণ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নয়। তাতে দু’দিনও লাগতে পারে, কুড়ি দিনও লাগতে পারে।” সেক্ষেত্রে রাজ্যের আইনি পদক্ষেপকে ঢাল করতে পারে কমিশন। সবমিলিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন যত পিছোবে অঙ্কের হিসেবে ততই এক দফায় নির্বাচন পরিকল্পনার দিকে এগোতে চাইবে কমিশন।
প্রথমত, মাইক্রো অবজার্ভারদের বিকল্প হিসেবে রাজ্যের ৮,৫০৫ বি গ্রুপ কর্মীদের মঙ্গলবার কাজে যোগ দিতে বলা হলেও প্রথম দিনেই তাঁরা কতজন কাজে যোগ দেবেন তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও পরিসংখ্যান নেই। কারণ ৮,৮০৫ জন কর্মীর কোনও তালিকা কমিশন তথা সিইও দপ্তর সোমবার সন্ধ্যে পর্যন্ত হাতে পায়নি। এদের মধ্যে কতজন অনুমোদিত পোস্ট তা খতিয়ে দেখবে সিইও দপ্তর। অনুমোদিত নামের তালিকা নির্বাচন সদনে পাঠানোর পর তারপর কমিশন তাঁদের নিয়োগপত্র দেবে। তার ভিত্তিতেই এসআইআরের কাজে যুক্ত হবেন এই অতিরিক্ত কর্মীরা। ফলে গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে দু’দিন বা তার বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়োগপত্র হাতে পেলেই তো কাজ শুরু করতে পারবেন না নির্বচনী কাজে অনভিজ্ঞ এই কর্মীরা। সেজ্ন্য তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যার জন্য দুই-তিনদিন সময় লাগবে। এরপর তাঁদের যদি লগ ইন দিতে হয় তাহলে অন্তত আরও দু’দিন সময় লাগবে। যদিও যেহেতু ভোটার তালিকার তথ্য পরিবর্তন শুধুমাত্র ইআরও-র সাংবিধানিক আধিকার তাই ইআরও-র সহায়ক হিসেবে এই নতুন কর্মীদের লগ-ইনের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই ধরে নেওয়া যায়। অর্থ্যাত, কাজ শুরু করতেই যদি প্রায় সপ্তাহ গড়িয়ে যায় তাহলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যাচাইয়ের কাজ সাত দিন বাড়িয়েও কার্যকারিতা কতটা হবে তা নিয়ে সন্দিহান সিইও দপ্তর। ফলে সোমবার থেকে ধরলে তা ১৬ ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়াবে।এরপরেই বিকল্প মাইক্রো অবজার্ভারদের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে হবে। যদিও নতুনদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বা কাজের উপযুক্ত করার সময়ের জন্য নথি যাচাইয়ের কাজ থেমে থাকবে না তাও জানিয়েছেন সিইও। এদিকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শুনানিতে ডাক পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত শুনানি শেষ হয়েছে ১ কোটি ৩৯ লক্ষের বেশি। এর মধ্যে ১ কোটি ৬ লক্ষের নথি আপলোড হয়ে গেছে। ২০-৩০ শতাংশ যাচাইয়ের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে। আগামী সাত দিনেও যাচাই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। এমতাবস্থায় নতুনভাবে যাচাইয়ের কাজে যুক্ত হওয়া সাড়ে আট হাজারের এই কর্মীরা কতটা কি কাজ করার সুযোগ পাবেন তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
” নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির স্বার্থে প্রয়োজনে এই কর্মীদের দিয়ে নথির অতিরিক্ত যাচাইয়ের কাজ করানো যেতে পারে ” জানিয়েছেন সিইও।

