হেডলাইন

এসআইআর নথি কাগজের ক্লিপিং, সাদা কাগজ!! কড়া হুঁশিয়ারি জ্ঞানেশ কুমারের

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এসআইআর শুনানির নথি হিসেবে কোথাও খবরের কাগজের গোটা পাতার ক্লিপিং, কোথাও বা আবার সাদা কাগজ বা অস্পষ্ট কাগজ আপলোড করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ইআরও-এইআরওরা। শুধু অভিযোগ নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রমাণ তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা ডিইও-দের কার্যত তুলোধনা
করলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। নথি আপলোডের পাশাপাশি যাচাই হয়ে যাওয়া নথির নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ঢিলেমি বা গড়িমসি নিয়েও অধিকাংশ জেলা প্রশাসন কমিশনের ফুল বেঞ্চের তোপে পড়ে। শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠকে সিইও-র উপস্থিতিতে একের পর এক জেলা ধরে ধরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় পারফরম্যানস নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কমিশনের গাইডলাইন অমান্য করে নথি আপলোড, নথি যাচাই এবং নথি যাচাই হয়ে যাওয়ার পর তা নিষ্পত্তিতে গড়িমসি নিয়ে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনা, পুর্ব বর্ধমান জেলার হাল খুবই খারাপ বলে চিহ্নিত করে ফুল বেঞ্চ। কমিশন বারবার সতর্ক করা সত্বেও কেন এই হাল তা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়। ফুল বেঞ্চের হুঁশিয়ারি
” কে কি কাজ করছেন তা সবকিছু কমিশনের ডেটা বেসে রয়েছে। প্রতিটি বিধিভঙ্গের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব নির্বাচন কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জ্ঞানেশ কুমারের সাফ কথা ” যদি কোনও অযোগ্য বা ভিনদেশি ভোটার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তর দায়ভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদেরই।” এদিনের বৈঠক সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাঁর মতে, ” যা হচ্ছে তা লজ্জার। অন্য কোনও রাজ্যে ‘ব্যুরোক্র্যাট’-রা এমন ধরনের লজ্জার কাজ করেননি। নির্বাচন কমিশন সবটাই নজরে রেখেছে এবং তাদের সামনে প্রমাণ দেখিয়েছে। দেখা যাক কি হয় !! ”

উল্লেখযোগ্য, কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায় আজকের বৈঠকে রাজ্যেএসআইআরের কাজ নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তাই রাজ্যের আধিকারিকদের নিশ্চিন্তে থাকার যো নেই। তাঁর মতে, ” আপাতত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নির্দিষ্ট সময়ে বের করাই লক্ষ্য কমিশনের। তবে সার্ভারে থাকা যাবতীয় তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা প্রকাশের পর অথবা ভোট শেষের পর এমনকি এক বা একাধিক বছর পরও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। “

Share with