আদালত ও সাংবিধানকে ঢাল করেই ৭ এইআরও সাসপেন্ড, তালিকায় ইআরও, ডিইও-রাও ইঙ্গিত সিইও দপ্তরের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
‘ ওস্তাদের মার শেষ রাতে ‘। সুপ্রিম কোর্টকে ঢাল করে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরাসরি সাতজন এইআরও-কে সাসপেন্ড করে সেই বার্তাই দিতে চাইল নির্বাচন কমিশন?
ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনও আপোষ নয় তা বুঝিয়ে দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হলেও শো-কজ না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি কর্মীমহলে। যদিও কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, এখানেই শেষ নয়, তালিকা আরও দীর্ঘ। সেই তালিকায় থাকতে পারেন বেশ কিছু ইআরও এমনকি ডিইও-রাও।
মূলত, রাজ্য সরকারি কর্মীমহলে গ্রেজেটেড অফিসার পদমর্যাদার সাত আধিকারিকের সামাজিক মর্যাদা ও সার্ভিস বুকে কালির দাগ দেওয়ার আগে কমিশনকে ভুলে ভরা সিস্টেম ও বারবার গাইডলাইন পরিবর্তনের পরিণাম সম্বন্ধে সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল। এমনকি রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে বলে খবর।
যদিও সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। ” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে নির্বাচন কমিশন কোনও শোকজ ছাড়াই স্বতপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনের কাজে যুক্ত কোনও আধিকারিককে সাসপেন্ড করতে পারে।” ফলে ৭ আধিকারিককে সারদারি সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও পাল্টা যুক্তিকে প্রশ্রয় দিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।
মূলত, সাত সরকারি আধিকারিকের সাসপেন্ড করার ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের গাইডলাইন মান্যতা না পাওয়া নিয়ে
প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ জানান মাইক্রো অবজারভাররা। সেই পর্যবেক্ষণ তথ্যপ্রমাণ সহ খতিয়ে দেখেন সিইও দপ্তর এবং বিশেষ পর্যবেক্ষকরা। তারপর তথ্যপ্রমাণসহ তা পাঠানো হয় নির্বাচন সদনে। ডিজিটাল ডেটাবেস থেকে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে স্বতপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আপাতত এই সাত সরকারি আধিকারিককে নির্বাচনী কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এমনকি এদের সরকারি পদ থেকেও সরে যেতে হবে বলে জানিয়েছে সিইও দপ্তর। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে। যিনি যে দপ্তরের অন্তর্গত সেই দপ্তরের প্রধান এই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেবেন।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এক্ষেত্রে বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন কমিশনকে জানাবে রাজ্য সরকার। কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষেই বিভাগীয় তদন্ত থেকে অব্যাহতি মিলতে পারে অভিযুক্তদের। তবে বিভাগীয় তদন্তে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন ধরনের শাস্তি হতে পারে। ১) বাধ্যতামূলক অবসর, ২) সরকারি কাজে আর কোনওভাবে পুনর্বহাল করা যাবে না, ৩) চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত। যদিও সিইও জানিয়েছেন
” সাসপেনশন মানেই আইনের চোখে অপরাধ নয়। কারণ তদন্তে যদি তিনি অব্যাহতি পান তাহলে তিনি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন না। ” তবুও তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নয় কেন? সিইও-র যুক্তি,
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ইআরও এমনকি এইআরও -দের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও একটি নির্দিষ্ট লক্ষণরেখাও রয়েছে। সেজন্য কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। সেই লক্ষণরেখা অতিক্রম করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এক্ষেত্রেও সেই যুক্তিকেই মান্যতা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। যেহেতু এর আগেও একাধিকবার রাজ্য প্রশাসন কমিশনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করেছে সেজন্য এক্ষেত্রে সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে স্বতপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ‘ দেরিতে ঘুম ভেঙে ‘ চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় কতটা শুদ্ধিকরণ সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।

