হেডলাইন

সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় প্রায় ৫০ লক্ষ?বৈধতা খতিয়ে দেখতে তৎপর হাইকোর্টও

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির আওতাভুক্ত প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ এখন জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারকদের হাতে। মূলত তথ্যের গরমিলের কারণেই যুক্তিগত অসঙ্গতি বা লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির কারণ দর্শিয়ে দেড় কোটির কিছু বেশি ভোটারদের শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি দূর না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদের উপক্রম হয়। রাজ্য সরকারের বিরোধিতা এবং আদালতের হস্তক্ষেপের জেরে নথিগুলির রিভিউ করা হলেও কমিশন সূত্রে খবর প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোটারের নাম ছাড়াই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে পারে।
সেক্ষেত্রে রাজ্যের প্রায় ৫০ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার সাপ্লিমেন্টারি তালিকাভুক্ত হয়ে ঝুলে থাকার সম্ভাবনা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যে তালিকার বিচার-বিশ্লেষণ করবেন রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসাররা। তবে ওই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাভুক্ত ভোটারদের নতুন করে কোন শুনানিতে রাজি নয় কমিশন। রাজ্যের পক্ষ থেকে নতুন করে শুনানির প্রস্তাব থাকলেও কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র যাচাইয়ের কাজই করবেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। উল্লেখযোগ্য, শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ চলবে। এরপরই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যার ধারণা যেমন মিলবে তেমনি সাপ্লিমেন্টারি তালিকার জন্য কত ভোটারের ভাগ্য জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর নির্ভর করছে তারও আভাস মিলবে।

এদিকে, লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির আওতায় থাকা যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা এবং আইনি সংকট নিরসনের জন্য এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়াতে বিচার ব্যবস্থার হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সেই আইনি সংকটকে জরুরি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে জেলা ও দায়রা বিচারক থেকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের জুডিশিয়াল অফিসারদের আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে সমস্ত ছুটি বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারের ( জুডিশিয়াল সার্ভিস) পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র মেডিকেল এমারজেন্সি ছাড়া উপরোক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত কোন ছুটি গ্রাহ্য করা হবে না। এদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ও দায়রা বিচারক, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক, বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক, সাংসদ বিধায়কদের ফৌজদারি মামলার জন্য নির্ধারিত বিচারক, সিটি সিভিল ও সিটি সেশন আদালতের বিচারক, বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক, রাজ্যের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের জুডিশিয়াল অফিসার। উপরোক্ত সবাইকে ২৩ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার নিজের নিজের কাজে বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দিতে হবে। ইতিমধ্যেই যে সমস্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে তাদেরকেও বাধ্যতামূলকভাবে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিজেদের অফিসে যুক্ত হয়ে চার্জ হ্যান্ডওভার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের বদলির নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন জায়গায় দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এমনকি জুডিশিয়াল একাডেমিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব নির্ধারিত সমস্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পৌরহিত্যে জুডিশিয়াল অফিসারদের মাধ্যমে লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে উদ্ভুত আইনি জট নিরসনে বিশেষ বৈঠক হয়। যে বৈঠকে সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল বিধানসভাভিত্তিক জুডিশিয়াল অফিসারদের রিভিউ বা যাচাইকরণের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য কমিশনের তরফে সরবরাহ করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এমনকি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য যথাযোগ্য সাহায্যেও কমিশন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
তাঁর কথায় ” কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। ”

তবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা ঠিক কবে প্রকাশিত হবে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শেষ পর্যন্ত সময়ের অভাবে লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির আওতায় থাকা বৈধ ভোটারদের কত অংশ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে কমিশনের আধিকারিকদের।

Share with