জ্ঞানেশ কুমারের ” না বলা বাণী ” তেই “আঁধারের যাত্রী” হলেন বিচারাধীন ভোটাররা
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
অনেক কিছুই বললেন, আবার অনেক কিছু বললেন না। দুদিন ধরে রাজ্যে দফায় দফায় বৈঠক আলোচনা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যকে ঠিক এভাবেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ কি ? সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে বা কিভাবে বেরোবে ? ভোট ঘোষণার আগে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে না হবে না ? এখনো পর্যন্ত দশ লক্ষের কিছু বেশি বেচারা দিন ভোটারের নথি যাচাই নিষ্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের ভবিষ্যৎ কি হবে ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর অধরাই থেকে গেল জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যে। বরং আসন্ন নির্বাচনে ” আঁধারের যাত্রী ” হয়েই রয়ে গেলেন বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটার।
বস্তুত রাজ্যে ৬০ লক্ষের বেশি যে বিচারাধীন ভোটার তাদের ভোট ভাগ্য নিয়ে ঝুলে রয়েছেন সে ব্যাপারে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি বলেন সেদিকেই নজর ছিল সকলের। যদিও সুপ্রিম কোর্টের কোর্টে বল ঠেলে সাবধানে সেই রাস্তা থেকে সরে এসেছেন জ্ঞানেশ কুমার। বিচারাধীন বা এডজুটিকেটেড হিসেবে যারা বিবেচিত রয়েছেন তাদের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে রাজ্যের ও ভিন রাজ্যের বিচারকরা তাদের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আদালতের নির্দেশিত পথেই এগোবে নির্বাচন কমিশন এমনটাই জানিয়েছেন জ্ঞানেস কুমার। তাহলে কি সম্পূর্ণ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগেই ভোট ঘোষণা করা হবে ? সেক্ষেত্রে বিচারাধীন ভোটারদের ভোটভাগ্যের ভবিষ্যত কি ? এই প্রশ্নগুলির কোনও উত্তর দেননি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। উল্লেখযোগ্য সুপ্রিম কোর্টে মঙ্গলবার বিচারাধীন ভোটার সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাগয নিষ্পত্তি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের মধ্যেই যারা পরীক্ষায় পাশ করেছেন তারা কি আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন ? সে প্রশ্নেরও কোন সদুত্তর দেননি জ্ঞানেশ কুমার। বরং প্রথমে খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি এবং পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পাঁচ লক্ষের কিছু বেশি অর্থাৎ প্রায় সাড়ে 63 লক্ষ্য ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার পর বর্তমানে রাজ্যে যে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষের কিছু বেশি বৈধ ভোটার হিসেবে যাঁরা বিবেচিত হয়েছেন তাঁরা যে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন সে কথা পরোক্ষে উল্লেখ করেছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়বে বলে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সেটাই সঠিক বলে বিবেচিত হতে চলেছে ? নির্বাচনমুখী ৫ রাজ্যের মধ্যে শেষতম হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফর শেষে এই প্রশ্নই এখন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একথা হলপ করে বলা যায় আসন্ন নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে হিংসা মুক্ত পরিবেশ এবং পক্ষপাতহীন নির্বাচন পরিচালনায় যতটা বেশি গুরুত্ব দিতে চায় নির্বাচন কমিশন তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বহীন হয়েছে সাত লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন বিচারাধীন ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্ন।

