হেডলাইন

শাসকের “গুপ্তশত্রু ” কমিশনের মুখ ?! জানিয়ে দিয়ে গেলেন জ্ঞানেশ কুমার

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

নাম না করে যাঁকে
” গুপ্তশত্রু ” বলে উল্লেখ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে কমিশনের মুখ হিসেবে চিহ্নিত করলেন জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার নিউটাউনের হোটেলে রাজ্যের নির্বাচন পরিচালনা ও আইন-শৃংখলা নিয়ে কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়ে দেন আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে কমিশনের মুখ হিসেবে কাজ করবেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস এন কে মিশ্র। বৈঠকে সকলের সামনেই এই দুই প্রবীণ সরকারি কর্তাকে দেখিয়ে জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দেন ” এই দুজন যা সিদ্ধান্ত নেবেন মাথায় রাখবেন সেটাই কমিশনের সিদ্ধান্ত। ” জানা গেছে, সুব্রত গুপ্তকে আসন্ন নির্বাচনে বিশেষ সাধারণ পর্যবেক্ষক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়ার কথা নিজেই জানান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। রাজনৈতিক দলে যেমন ‘ভোটের মুখ’ থাকে নির্বাচন পরিচালনায় সেরকম
‘কমিশনের মুখ’ যে তাৎপর্যপূর্ণ তা মানছেন পদস্থ কর্তারাই। যদিও এই খবর লেখা পর্যন্ত এনিয়ে নির্দিষ্ট কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি কমিশন।
সুব্রতবাবু ইতিমধ্যেই এরাজ্যে এসআইআর পর্বে বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। নির্বাচনের কাজে যুক্ত হতে গেলে তাঁকে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনও পদে যুক্ত করাই নিয়ম। তদনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ সাধারণ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর। অন্যদিকে, দুঁদে গোয়েন্দা কর্তা তথা অজিত দোভাল ঘনিষ্ঠ এন কে মিশ্রকে আগেই নির্বাচনের কাজে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মূলত, সুব্রত গুপ্তকে রাজ্যে এসআইআর পর্বের বিশেষ পর্যবেক্ষক করে পাঠানোর পর থেকেই নানাভাবে রাজ্যের রোষানলে পড়েন তিনি। সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের অন্যতম কারিগর এই দুঁদে বাঙালি আইএএস-কে সরাসরি
“গুপ্তশত্রু” বলে উল্লেখ করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুর নিয়ে অনেক তথ্য ফাঁস করারও হুঁশিয়ারি দেন। যদিও
“যদি কেউ কিছু বলে থাকেন তাহলে তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে কিছু বলতেই পারেন। তবে তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। যে কেউ যা কিছু বলতেই পারেন ” বলে কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে গুরুত্বই দিতে চাননি এই বর্ষীয়ান আইএএস। প্রাথমিকভাবে এসআইআর পর্ব শেষ করে আপাতত ‘ছুটি’ নেওয়ার কথা জানালেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তিনি জানান ” কাজটা কঠিন ছিল, কিন্তু কাজটা করা গেছে। ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন যদি কোনও নতুন দায়িত্ব দেয় তাহলে আমি তা পালন করব।” অবশেষে নির্বাচন কমিশন তাঁকেই আসন্ন নির্বাচনে অন্যতম ‘মুখ’ হিসেবে তুলে ধরার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন গোয়েন্দা ক্যাডার তথা বর্ষীয়ান আইপিএস এন কে মিশ্র ইতিমধ্যেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধি ও তাঁদের কাজকর্ম নিয়ে সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসার ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তদারকির কাজ চালাবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সুব্রতবাবু এসআইআরের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করার সঙ্গে কমিশনের গাইডলাইন মেনে নির্বাচনী কাজ পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করবেন এবং সাধারণ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্বাচন পরিচালনার কাজে যুক্ত থাকবেন বলে কমিশন সূত্রে খবর।

Share with