হেডলাইন

নির্বাচনে “বাংলা” কালচার বদলে পর্যবেক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে কমিশন

সদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ” বাংলার কালচার ” বদলের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন। আর সেই লক্ষ্যপূরণে নির্বাচনে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের ভুমিকা অভিযোগহীন করতে বিশেষ পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। মূলত, নির্বাচনে পর্যবেক্ষকরাই হলেন কমিশনের আয়না। কিন্তু বিগত নির্বাচনগুলিতে পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করা অথবা মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে “গায়েব” হয়ে যাওয়ার মত বহু অভিযোগ উঠেছে। স্বচ্ছ্ব ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষকদের এই ভূমিকার বদল প্রয়োজন একথা মেনে নিয়েই
রাজ্যে নিযুক্ত সাধারণ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বে থাকা বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, ” নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপুর্ণ করতে কমিশন এবার পর্যবেক্ষক থেকে নির্বাচনী আধিকারিকদের জন্য বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে বাংলার নির্বাচনী কালচারে পরিবর্তন আসবে।” রাজ্যের প্রাক্তন এই দুঁদে আইএএস অফিসারের এই বক্তব্যে ই স্পষ্ট যে কমিশন এবার বিগত পাঁচ বছরের নির্বাচনগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন,”পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের জন্য ডেপুটেশনে কাজ করছেন। তাঁদেরকেও কমিশনের গাইডলাইনকে মান্যতা দিতে হবে। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কমিশনের উর্ধ্বে নয়। সবাইকেই আইন মানতে হবে। নাহলে পদক্ষেপ হবে।”

মূলত, পর্যবেক্ষকদের জন্য কমিশন যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলি হল—-

## রাজ্যে ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং হবে। প্রতিনিয়ত মনিটরিং রাখবেন মাইক্রো পর্যবেক্ষকরা। প্রতিনিয়ত তাঁরা রিপোর্ট দিতে থাকবেন।

## রাজ্যস্তরে বা সিইও দফতরও প্রতিনিয়ত মনিটরিং চালাবে। সেক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকদের কাজের নিরীক্ষণও করা হবে।

## কোথাও গন্ডগোলের আভাস পেলেই সেক্টর অফিসারের কাছে মেসেজ যাবে। সেই মেসেজ পাবেন পর্যবেক্ষকরাও। তারা তখনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। অন্যথায় কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে পড়বেন।

## কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইলেই নিজে কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না। বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং থেকে কন্ট্রোল রুম বাহিনীর গাড়ির গতিবিধি নজরে রাখবে। সেই অনুযায়ী পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাঁরা পদক্ষেপ করবেন।

Share with