বিশেষহেডলাইন

ভারি বুট পরেই প্ল্যাকার্ড হাতে ভোটের বার্তা নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় যাবে বাহিনীর জওয়ানরা

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ বা এরিয়া ডোমিনেশন মানে শুধুই ভারী বুটের আওয়াজ বা ইনসাস-এলএমজির আস্ফালন নয়। আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ডিউটিতে নয়া ভূমিকায় দেখা যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। ভোট সন্ত্রাস মুক্ত পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের বার্তা নিয়ে এবার এলাকায় এলাকায় প্ল্যাকার্ড, ব্যানার বা ফেস্টুন হাতে দেখা মিলবে আগ্নেয়াস্ত্রধারী জওয়ানদের। এলাকায় এলাকায় রুট মার্চ চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ মানুষ বা ভোটারদের সঙ্গে ভোটের পরিবেশ নিয়ে কথা বলবেন। তাঁদের একাংশের হাতে নির্ভয়ে ভোটদান, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের বুথ্মুখী হওয়া, কারোর মাধ্যমে প্রভাবিত না হয়ে নিজের মত প্রকাশের ক্ষমতা প্রয়োগ সহ গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিভিন্ন আবেদনের পোস্টার বা ফেস্টুন থাকবে। জওয়ানরা এভাবেই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদানের অধিকার পালন করতে সাধারণ ভোটারদের নির্ভরতা যোগাবেন। বঙ্গীয়
নির্বাচনী ইতিহাসে এই ছবি প্রথমবারের জন্য দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের পদস্থ কর্তা।

বস্তুত, প্রাক নির্বাচনী, নির্বাচন চলাকালীন সময় এবং নির্বাচনোত্তর পর্বে হিংসার ঘটনা অতীতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে বিতর্ক তুলেছে তার মোকাবিলায় এবার অনেক আগে থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই শুধু ভোটের ডিউটি নয়, রাজ্যের ভোটারদের মধ্যে ভোট দানের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার আত্মবিশ্বাস তৈরি করা, হিংসামুক্ত স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সর্বোপরি নির্বাচনী সন্ত্রাস বন্ধ করে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদান নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব পালনে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর দয়িত্ব ও গুরুত্ব বাড়িয়েছে কমিশন। তারই অঙ্গ হিসেবে সাধারণ ভোটারদের কাছে নির্বাচনী গণতন্ত্রের ঐতিহ্য বজায় রাখার আবেদন নিয়ে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন সহ ভোটারদের কাছে হাজির হবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নির্বাচনী সময়কালে একজন ভোটারের কি কর্তব্য এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় বাহিনীর সঙ্গে কিভাবে সহযোগিতা করবেন প্রয়োজনে সেই সংক্রান্ত পরামর্শ বা লিফলেটও জওয়ানদের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়া পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কিভাবে কাজে লাগাতে চায় কমিশন তা নিয়ে বুধবার রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে জানিয়েছে কমিশন। বাহিনীকে বসিয়ে রেখে যথাযথভাবে কাজে না লাগানোর চিরায়ত অভিযোগ আসন্ন নির্বাচনে যে বরদাস্ত করা হবে না সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি ভোটারদের ভয়মুক্ত করার মূল কারিগর হিসেবে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নতুনভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, অবাধ ও শন্তিপুর্ণ নির্বাচনের জন্য রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের অধিকাংশই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্ভরতার বিষয়েই জোর দিয়েছে। তাই ভোট সন্ত্রাস আবহমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে এবং ভোটারদের বুথমুখী করে ভোটদানে আশ্বস্ত করার কাজে বাহিনিকেই নতুন ভূমিকায় নিযুক্ত করতে চায় কমিশন।

Share with