হেডলাইন

পোর্টাল সমস্যা থেকে ই-সিগনেচার জটে কাবু সাপ্লিমেন্টারি তালিকা, জটে ট্রাইব্যুনাল পরিকাঠামো

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

বিবেচনাধীন ভোটারদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি তালিকার প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফাতেও জটিলতা অব্যাহত। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকেও জট কাটেনি। সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল নিয়ে যেমন কিছু সমস্যা রয়েছে যার ফলে বিবেচনাধীন পর্যায়ে থাকা ভোটারদের নাম তোলার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি বিচারকদের ই-সিগনেচার নিয়েও বেশ কিছু জটিলতা বা প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে খবর। কিভাবে এই জট কাটানো যায় তা নিয়েই এদিনের বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হলেও আপাতত কোনও সমাধানসূত্র না মেলায় দ্বিতীয় দফার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন করে কত বিচারাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হল বা কত ভোটারের নাম দ্বিতীয় দফার তালিকায় স্থান পেতে পারে তা নিয়ে নিশ্চিত কোনও ধারণা দিতে পারল না সিইও দপ্তর। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়াও এখনও প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছয়নি তা বলাই বাহুল্য।

কমিশনের পোর্টাল সমস্যার কথা সরাসরি উল্লেখ না করেও নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ” এমন কোনও সিস্টেম নেই যা নিয়ে সমস্যা হয় না। কমিশনের পোর্টাল সিস্টেম বা রেডার সিস্টেমের সমস্যা কি সেটা কমিশন বলতে পারবে। বিচারকদের ই-সিগনেচার সম্পূর্ণ হলেই তালিকা প্রকাশ হবে। কিন্তু কত সংখ্যা বা ঠিক কখন তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।” উল্লেখযোগ্য, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৩৭ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম তালিকায় প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের বিবেচনার কজ নিষ্পত্তি হলেও ১০ লক্ষের মত ভোটারের নাম সহ প্রথম তালিকা প্রকাশ হয়েছে বলে জানায় কমিশন। সেই অনুযায়ী দ্বিতীয় দফার জন্য নিষ্পত্তি হওয়া আরও ৮ লক্ষের মধ্যে কত ভোটারের নাম দ্বিতীয় তালিকায় থাকতে পারে তা জানাতে পারেনি কমিশন।

পক্ষান্তরে, কাগজে-কলমে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের জন্য কোনও বাড়ি ঠিক হয়নি। শুক্রবার হাইকোর্ট প্রস্তাবিত নিউটাউনের জুডিশিয়াল একাডেমি সহ রাজ্য সরকার নির্ধারিত আরও চারটি জায়গায় ভবন পরিদর্শন করে কমিশন ও হাইকোর্টের যৌথ প্রতিনিধি দল। সেই পরিদর্শন রিপোর্ট আজ হাইকোর্টের বৈঠকে জমা দেওয়া হয়। হাইকোর্ট গঠিত এই সংক্রান্ত তিন সদস্যের কমিটি তা খতিয়ে দেখে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল যে সফটওয়্যারের ভিত্তিতে কাজ করবে তাও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সিইও জানিয়েছেন, ” শনিবার সফটওয়্যার টেস্টিং হতে পারে। তা সম্পূর্ণ হলে দু’একদিনের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরি হয়ে যাবে।” অর্থ্যাৎ, ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজই এখনও অসম্পূর্ণ। স্বাভাবিকভাবেই বিবেচনাধীন ভোটারদের কত অংশ আদপে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিস্ট সব মহলেই।

Share with