বাহিনী থাকতেও রাজ্যে অশান্তির আবহ !! পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিলেন সিইও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে হিংসামুক্ত করতে কমিশন একাধিক নির্দেশিকা জারি করা সত্ত্বেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ঘটনায় ক্ষুব্ধ কমিশন। রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও মুর্শিদাবাদ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগণা কোথাও রাজনৈতিক মিছিল কোথাও বা ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে অশান্তির আবহ।
রাজ্যের সিইও-র মতে ” বাহিনীকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ঘটনার সময় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে না ডেকে ঘটনার পর বাহিনীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অকুস্থ্লে যে প্রশাসনিক আধিকারিকরা রয়েছেন তারা ঠিকভাবে কাজ করছেন না।” কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার থেকে রাজ্য সিইও দপ্তর প্রশাসনিক কর্তাদের বারবার বাহিনীর যথাযথ ব্যবহার , হিংসামুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন জানালেও তা মান্যতা পাচ্ছে না কেন ? এই পরিস্থিতিতে ফের জেলায় জেলায় পুলিশ-প্রশাসনকঠোপ্রশাসনকে কড়া বার্তা দিল সিইও দপ্তর। একদিকে সংশ্লিষ্ট থানাগুলির ওসি বা আইসি-কে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া অথবা বিডিও-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার পাশপাশি
রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার থেকে এসডিপিও বা বিডিওদের
জন্য জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। সিইও-র তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রতিটি নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
সামগ্রিক বিষয়টিকে “অত্যন্ত জরুরি” বলে চিহ্নিত করে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগের নির্বাচনের সময় দায়ের হওয়া সমস্ত অপরাধমূলক মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট বা চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত অ-জমিনযোগ্য ওয়ারান্ট কার্যকর করার ওপর জোর দিতে হবে। পলাতক অভিযুক্ত, ঘোষিত অপরাধী ও প্যারোল ভঙ্গকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানার ওসি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের। এছাড়াও সম্ভাব্য দুষ্কৃতী, গুন্ডা ও চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করতে বলা হযেছে। নির্বাচন চলাকালীন অশান্তি এড়াতে এই তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে কমিশন। পার্শ্ববর্তী মহকুমা ও জেলার সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানেরও নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী , নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত সমস্ত আধিকারিক আইনত তকমিশনের অধীনে থাকবেন এবং তাদের কাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহি করতে হবে। দায়িত্বে গাফিলতি বা কোনও রকম অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে তা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

