অবাধ ভোটদানে ‘সন্দেহ’ হলেই পুনর্নির্বাচন !! নির্বাচনী স্বচ্ছ্বতায় বেনজির নজরদারি ও আইনি ব্যবহার
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভোটের বুথে সন্ত্রাস বা ভোটদানে বাধার ঘটনা ঘটলেই নয় আসন্ন নির্বাচনে শুধুমাত্র “সন্দেহ” বশেই যেকোনও বুথে রিপোল বা পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার যদি রিপোলের সুপারিশ নাও করেন রিটার্নিং অফিসার, সেক্টর অফিসার, পর্যবেক্ষক এমনকি ওয়েব কাস্টিং মাধ্যমে নজরদারির ভিত্তিতে কমিশন নিজেই সুয়ো মোটো সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু বুথে নয়, বুথের ১০০ মিটারের বাইরে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোটারকে ভোটদানে বাধা বা ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় এমনকি ভোটারের বাড়িতেও যদি কোনও হুমকির অভিযোগ ওঠে চটজলদি তা খতিয়ে দেখে ওই বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। এক্ষেত্রে ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮এ ধারাকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে চায় কমিশন। পাশাপাশি বুথজ্যাম বা ক্যাপচার রুখতে ভোটকর্মী বা সরকারি কর্মীদের জন্য ১২৯ ধারা এবং সাধারণ মানুষের জন্য ১৩৫ এ ধারার কঠোর প্রয়োগ করতে চায় কমিশন। প্রসঙ্গত, সাধারণের জন্য সাজা ১-৩ বছরের জেল ও জরিমানা হলেও সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে সাজা হবে ৩-৫ বছরের জেল ও জরিমানা। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন ” আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে হিংসামুক্ত করতে নির্বাচন কমিশন অভূতপুর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদানকে সুনিশ্চিত করবে।” মূলত, নির্বাচনী আইনের ব্যবহারিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে আসন্ন নির্বাচনে বঙ্গের “নির্বাচনী কালচার” বদলানোর চেষ্টায় মরিয়া কমিশন। ভোটবুথের ব্যবস্থাপনা, বুথ সন্ত্রাসের সংজ্ঞা বদলে, ভোট ব্যবস্থায় নজিরবিহীন ত্রিস্তরীয় নজরদারি চালিয়ে সর্বোপরি নির্বাচনী আইন বা বিধিকে সুসংহত উপায়ে প্রয়োগ করে নির্বাচনকে অবাধ ও স্বচ্ছ্ব তথা নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানান ” আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে এবং যোগ্য ভোটারের ভোটদান সুনিশ্চিত করতে যে ধরণের নিরাপত্তা ও নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে তা অতীতে এরজ্যে কোনওদিন হয়নি।”
বস্তুত, ভোটের দিন নজরদারি ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে চলেছে কমিশন। রিটার্নিং অফিসার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং সিইও দপ্তর এই স্টরিও নজরদারির ব্যবস্থার পাশাপাশি সিইও দপ্তর থেকে জেলাস্তরে বিশেষ কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা থাকছে।
## সিইও দপ্তরে তিন ধরনের কন্ট্রোল রুম থাকবে। একটিতে ভোট দান সংক্রান্ত যাবতীয় নজরদারি চলবে। অন্যটিতে নাকা চেকিং পয়েন্টগুলি দেখা হবে এবং অপরটিতে মিডিয়া মনিটরিং করা হবে। ৩৬ টি স্ক্রিনে মোট ৪৩২ টি জায়গা একসঙ্গে মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি স্ক্রিনে নজরদারির জন্য থাকবেন দুজন করে মাইক্রো অবজার্ভার। প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে ফ্লায়িং স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিম। এদের গাড়িতে মোবাইল ক্যামেরা যুক্ত থাকবে। কন্ট্রোল রুমের নির্দেশ পেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে ফ্লায়িং স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিম। প্রতিটি কন্ট্রোলরুমে সিসি ক্যামেরার পর্যবেক্ষণ থাকবে। যাবতীয় ওয়েব কাস্টিং কন্ট্রোল রুমের কেন্দ্রীয় দায়িত্বে থাকছেন প্রধান সচিব পদমর্যাদার আধিকারিক।
## প্রতি বুথের ভিতরে ও বাইরে ক্যামেরা থাকবে। ক্রিটিকাল বুথগুলিতে থাকবে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ
## এবারের নির্বাচনে মোট ২,৬৪৬ টি ফ্লায়িং স্কোয়াডের গাড়ি থাকবে যে গাড়িগুলিতে ক্যামেরা লাগানো থাকবে।
## ক্যামেরা লাগানো কুইক রেসপন্স টিমের গাড়ি থাকবে ৩ হাজার ৯৩ টি।
## প্রতিটি চেক পোস্টে ক্যামেরা লাগানো থাকবে যা কন্ট্রোল রুমগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
## মোট নাকা চেকপোস্ট এর সংখ্যা ১,৭৪০
## মাইক্রো অবজারভারের সংখ্যা ২,৩৫২
## ভোটের জন্য রাজ্যে ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবক্ষেক, ১০০ জন আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক এবং ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকছেন। এদের সহযোগী হিসেবে থাকবেন ৯৫৬ জন আধিকারিক।

