হেডলাইন

ট্রাইব্যুনালে আপিল করেও ভোটদান নিয়ে সংশয়ে লক্ষ লক্ষ ভোটার!! রাজ্যে ভোটার তালিকায় বাদ ৯০ লক্ষের বেশি

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

ভোটদানের আবেদন জানিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম খারিজ হওয়া বিচারাধীন ভোটাররা ট্রাইব্যুনালে গেলেও কি আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ? ট্রাইবুনালের পরিকাঠামো তৈরির কাজ যে গতিতে চলছে তাতে এই সংশয় অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত আট সপ্তাহের মধ্যে ট্রাইবুনালের কাজ শেষের মেয়াদ থাকলেও এবং ৭ এপ্রিলের মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের কাজ সম্পূর্ণ করার কথা সুপ্রিম কোর্টে জানানো হলেও ট্রাইবুনালের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষের উপরেই যে আপিল করা ভোটারদের ভোটভাগ্য নির্ভর করছে তা বলাই বাহুল্য। যদিও ইতিমধ্যেই ট্রাইবুনালের জন্য নির্দিষ্টপোর্টাল কজ শুরু করেছে এবং অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন গ্রহণের কাজও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকা, চুড়ান্ত ভোটার তালিকা ও বিচারাধীনদের একাধিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনে পস্চিম্বঙ্গে কমবেশি ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে জোকায় কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের দপ্তরে যে ট্রাইবুনাল তৈরি হচ্ছে এখনো পর্যন্ত তার পরিকাঠামো তৈরির কাজ একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। বিল্ডিংয়ের খোঁজ মিললেও এক ছাতার তলায় জেলাভিত্তিক ১৯ জন জুডিসিয়াল অফিসারের কার্যালয় তৈরি করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। কবে থেকে কাজ শুরু হবে এই প্রশ্নের উত্তরে সিইও জানান, ” বাড়ি তো রেডি তবে বসার জন্য চেয়ার-টেবিল তো লাগবে। নাহলে কাজ করবে কিভাবে? ” স্বাভাবিকভাবে কবে থেকে ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করবে তা এপ্রিলের প্রথম দিনেও নিশ্চিত করতে পারল না সিইও দপ্তর। ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করলেও আবেদনকারীদের নাম চুড়ান্ত করার আগে তাঁদের নিয়ে কোনও আপত্তি আছে কিনা তা জানার জন্য নিয়মমাফিক অপেক্ষার পর হবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এদিকে সিইও দপ্তর জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৬ টি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হলেও আসন্ন নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে প্রথম দফা নির্বাচনের জন্য ডেডলাইন ৬ এপ্রিল রাত বারোটা এবং দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের জন্য ডেডলাইন ৯ এপ্রিল রাত বারোটা। এরপর ভোটার তালিকায় নাম তোলার কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই এখনো পর্যন্ত যে বিচারাধীন ভোটারের নাম খারিজ হয়েছে তারা ট্রাইবুনালে কবে আবেদন জানাতে পারবেন তা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফলে সময়ের অভাবে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের ভোটদান
কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছে সিইও দপ্তরের আধিকারিকরা। যেহেতু অ্যাডজুডিকেশন তথা ট্রাইবুনালের মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিস্পত্তি যেহেতু নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং সমস্ত নির্বাচনী আইন বা বিধির সিলেবাসের বাইরে তাই এনিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী চলা ছাড়া কমিশনের বাড়তি কোনও ভুমিকা নেই বলেও জানিয়েছেন পদাধিকারীরা।

অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে বুধবারের শুনানি অনুযায়ী ছয়টি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় এখনও পর্যন্ত বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির সংখ্যা প্রায় ৪৯ লক্ষ ৬২ লক্ষ ৮৫০। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, এই অনুপাতে বিচারাধীন থাকা মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৪৫ শতাংশের নাম বাদের অনুপাতে মোট প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই নিরিখে খসড়া ভোটার তালিকা ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬৩ লক্ষ বাদ যাওয়া ভোটারের সঙ্গে এই ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম যুক্ত হলে সবমিলিয়ে ৯০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে বলে খবর।

Share with