নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বিচারক হামলার ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্তভার কমিশনের ; দ্রুত প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে নির্দেশ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ঘেরাও ও হামলার ঘটনায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে এনআইএ-কে তদন্তভার নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কালিয়াচকের গোটা ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সেই নির্দেশ মেনেই এনআইএ-কে তদন্ত শুরু করার অনুরোধ করা হয়েছে এবং দ্রুত একটি প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে অনুযায়ী এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজে যুক্ত সাতজন বিচারককে কালিয়াচক বিডিও অফিসে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল। বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শুরু হওয়া এই অবরোধ রাত পর্যন্ত চলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের কাছে খাবার ও জল পৌঁছতেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আদালত আরও জানিয়েছে, প্রশাসনের তরফে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জেলাশাসক বা পুলিশ সুপার কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পরে গভীর রাতে বিচারকদের উদ্ধার করা হলেও ফেরার পথে তাঁদের গাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে, এটি শুধুমাত্র বিচারকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল। একইসঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তুলেছে শীর্ষ আদালত। এই প্রেক্ষিতেই আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিচারক বা বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং তাঁদের কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে হবে। পাশাপাশি মালদার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের কাছেও কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সিবিআই অথবা এনআইএ যেকোনও একটি এজেন্সিকে বেছে নিতে বলে শীর্ষ আদালত। যদিও এই ঘটনায় বোমাবাজি বা বিস্ফোরক ব্যবহারের কোনও ঘটনা না ঘটলেও কমিশন শেষ পর্যন্ত এনআইএ-কে তদন্তভার তুলে দেয়।

