হেডলাইন

” বিবেকহীন হলে বিচারের মৃত্যু হয় ” ; অধিকার হারিয়ে বলছেন ভোটাররা !!

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

সোমবার রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে মনোনয়ন জমার শেষ দিন। অর্থাৎ, সোমবারই প্রথম দফায় ভোটার তালিকায় নাম সংযোজনের নির্ধারিত শেষ দিন। আরও দু’একদিনের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা নাম খারিজ হওয়া বিচারাধীন ভোটারদের আবেদন খতিয়ে দেখার জন্য নির্দিষ্ট ট্রাইবুনালের। জোকায় কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরের ভবনে ১৯ যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে কাজ শুরু করবে ট্রাইবুনাল। যদিও ইতিমধ্যেই এটা স্পষ্ট হয়েছে যে ট্রাইবুনালে যারা আবেদন করবেন তাঁরা এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন না। পাশাপাশি চুড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা যাঁরা ডিইও-সিইও র কাছে আবেদন করেছেন তাঁদের কত শতাংশ এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটার থেকে প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি থেকে ট্রাইবুনালের জার্নি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন। সাধারণ ভোটাররা কিছু সঙ্গত প্রশ্ন সামনে এনেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ নেওয়া প্রশাসনের একাংশও যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির পাল্টা যুক্তির খোঁজ করছেন।

## ২০০২-এ নাম রয়েছে এবং যিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোটার এমন বাবার ছেলে-মেয়ের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ ?! এদের যেতে হবে ট্রাইবুনালে !?

## হিয়ারিংয়ে ডাক পেয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, তবুও ভোটার তালিকায় জায়গা হয়নি! এখন যেতে হবে ট্রাইবুনালে ?!

## যে লোকটি মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দিয়ে নিজেকে যোগ্য ভোটার হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনিও আজ ট্রাইবুনালের দিকে তাকিয়ে!!

## বাবা-মায়ের নাম যোগ্য ভোটার হিসেবে স্বীকৃত। অথচ তাঁদেরই সন্তানকে ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি এসআইআর!! তাঁকেও যেতে হবে ট্রাইবুনালে ?

বাবার নাম আছে ২০০২ এর তালিকায়, চার ভাইবোনের দুজনের নাম উঠেছে বাকি দু’জন ভোটার তালিকায় ব্রাত্য? কিন্তু কেন ? উত্তর নেই কমিশনের কাছে। এখন ট্রাইবুনাল দেখিয়ে দিয়েছে কমিশন !!

## বিয়ের পর রীতি অনুযায়ী মেয়ের পদবী পরিবর্তন হয়েছে। ২০০২ সালে বাবার ও মেয়ের নাম রয়েছে। স্বামীর নাম-পদবীর প্রমাণপত্রও জমা পড়েছে। তবুও মন ভরেনি নির্বাচনী কর্তাদের। চুড়ান্ত তালিকায় স্থান হয়নি, মুখ ফিরিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও। অগত্যা ট্রাইবুনালের অপেক্ষা !!

## বয়স আশির কাছাকাছি। ৫০ বছরের বেশিদিনের ভোটার। ভোটার তালিকায় নাকি নামের বানান ভুল। তাই ভোটার হওয়ার পরীক্ষায় পাশ করায়নি এসআইআর। এখন ট্রাইবুনাল !! ভুল কার? প্রশ্ন তোলা হলেও শুনছে কে ?

এই প্রশ্নের উত্তরে বরাবরই রাজ্য প্রশাসন তথা শাসকদলের দিকে আঙুল তুলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম বিচারব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি এবং ট্রাইবুনালের অবতারণা যার জন্য নির্বাচন কমিশনের কোনও ভুমিকা নেই বলে দায় সেরেছে কমিশন তথা সিইও দপ্তর। খোদ মুখ্যমন্ত্রী কমিশনের কাজের স্বচ্ছ্বতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সওয়াল করে লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি ও কমিশনের বিরুদ্ধে রায় আদায় করেন এবং বিচারব্যবস্থাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেন। ফলে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে ট্রাইবুনালের জটিলতা বা এই প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের ভোটাধিকারের দায়িত্ব নিতে নারাজ কমিশন। বরং বিচারব্যবস্থা ও রাজ্য প্রশাসন বা শাসকদল যে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী তা স্পষ্ট জানাতেও দ্বিধা নেই কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের। তবে এই দায় ঠেলাঠেলিকে ” নাটক ”
বলে উল্লেখ করেছেন সাধারণ ভোটারদের অধিকাংশই। ভোটাধিকার হারানো ভোটারদের মতে,
” বিবেকহীন হলে বিচারের মৃত্যু হয়। “

Share with