রেলের হার্ডল টপকে রাজনীতির ট্র্যাকে লড়াইয়ে স্বপ্না বর্মনকে ছাড়পত্র কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
অ্যাথেলেটিক্সের ট্র্যাকে একের পর এক হার্ডলস টপকে ২০১৮ সালের জাকার্তা এশিয়াডে হেপটাথলনে সোনা জিতেছিলেন। কিন্তু রাজনীতির ট্র্যাকে প্রথম হার্ডল টপকাতেই বেগ পেতে হল অর্জুন পুরস্কারজয়ী অ্যাথেলিট স্বপ্না বর্মণকে। অবশ্য আইনি বাধায প্রাথমিকভাবে আটকে গিয়েও নিয়মের মারপ্যাঁচে শেষ পর্যন্ত রাজনীতির আঙিনায় প্রবেশের ছাড়পত্র পেলেন ধুপগুড়ির মেয়ে স্বপ্না। সৌজন্যে নির্বাচন কমিশন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হন স্বপ্না বর্মণ। কিন্তু উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার জংশনে স্টাফ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত থাকাকালীন রেল মন্ত্রককে না জানিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় স্বপ্নাকে চাকরি থেকে বরদাস্ত করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেয় ভারতীয় রেল। পাল্টা আইনের দ্বারস্থ হন স্বপ্নাও।
অবশেষে রবিবার নির্দেশিকা জারি করে
ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ৯ নম্বর ধারার অধীনে স্বপ্নাকে ভোটে প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিল কমিশন।
গত ২৭ মার্চ তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয। রেলওয়ে সার্ভিসেস (কন্ডাক্ট) রুলস, ১৯৬৬-র ৫(১) বিধি অনুযায়ী রেলওয়ে চাকরির কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গ করে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় রেল। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বপ্না বর্মণকে দুর্নীতি বা রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বস্ততার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়নি। সেই কারণেই আইনের নিরিখে তাঁর নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই।

