অতীত রেকর্ড ঘেঁটে আসন্ন নির্বাচনে ৮,৪১৩ বুথ স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ৮,৪১৩ টি বুথকে স্পর্শকাতর বা সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মোট প্রধান বুথের (৮০,৭১৯) নিরিখে যা ১০ শতাংশ। রাজ্যের কোনও নির্দিষ্ট এলাকা বেছে নয় মোটামুটি সব জেলাতেই কমবেশি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন এখনও দু’সপ্তাহ দূরে। তবে ৯ মে রাজ্যে দ্বিতীয় দফা তথা শেষ দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনেও স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা আরও বাড়বে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
মূলত,একটি বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করার মানদণ্ড হিসেবে ধার্য করা হয় বুথটির অতীত রেকর্ড। বুথে ভোটের দিন, অথবা ভোটের আগে ও পরে হিংসার ইতিহাস, বুথ ক্যাপচারিং বা বড় আকারের কোনও ঘটনা, ৯০% এর বেশি ভোটদানের হার, একটি প্রার্থীর জন্য ৭৫% ভোটদান বা জোর করে ভোটদানের অতীত ঘটনা এক্ষেত্রে বিশেষ ইঙ্গিত। এছাড়াও বুথ এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য, জাতিগত বিরোধ বা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর ইতিহাসও এক্ষেত্রে বিচার্য। সর্বোপরি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে এলাকা বা বুথগুলি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার হয় সেই এলাকা বা বুথগুলির রেকর্ড খতিয়ে দেখে স্পর্শকাতরতার নিক্তিতে মাপে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০২৩ -এর ম্যানুয়াল অনুযায়ী সবরকম ব্যবস্থার পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে স্পর্শকাতর বুথ এলাকায় অশান্তি এড়াতে
ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ও নিরাপদবোধে নিরাপত্তা বাহিনীর ডোর টু ডোর নিবিড় টহলদরি, ভোটকেন্দ্রের রুটগুলিকে নিরাপদ রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ টহলদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বুথগুলির ভিতরে দুটি এবং বাইরে একটি ওয়েবক্যামের ব্যবস্থা, QRT ভ্যানে বিশেষ ক্যামেরা সহ বাহিনীর বডি ক্যাম, ত্রিস্তরীয় কন্ট্রোল রুম থেকে বিশেষ নজরদারি ও সরাসরি টেলি যোগাযোগ ইত্যাদি বহুবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে কমিশন রাজ্যের প্রতিটি বুথে যেভাবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার যে বিজ্ঞাপনই করুক জনমনে বা বাস্তবে তার প্রতিফলন কতটা সুনিশ্চিত তা হলপ করে বলা মুশকিল।
বস্তুত, ২০২৩-এর ম্যানুয়াল মেনে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও সেক্টর অফিসারের মাধ্যমে স্পর্শকাতর এলাকার ম্যাপিং হয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই। স্পর্শকাতর এলাকায় ভোটারদের আত্মবিশ্বাস তৈরি ও ভয়ের পরিবেশ দূর করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে এলাকায় নিয়মিত রুট মার্চ বা টহলদারি করানো হয়। স্পর্শকাতর বা উত্তেজনাপ্রবণ ভোট বুথের প্রহরায় ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথের ভিতরে বা বুথ চত্বরে কমিশনের আয়না হিসেবে মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন। তাছাড়া ভোটারদের বা আক্রান্তদের অভিযোগ জানানোর জন্য 1950 হেল্পলাইন এবং C-VIGIL অ্যাপের ব্যবস্থা রাখা হয়।

