স্বচ্ছ্বতার লক্ষ্যে (!) এক সপ্তাহে দেড়শোর বেশি বদল কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ফের বড়সড় রদবদল। শনিবার এক ডজন আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস স্তরের অফিসারদের বদলির নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতা পুলিশ থেকে জেলা— সর্বত্রই এই বদলির প্রভাব পড়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ প্রশাসনিক প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করছে বলেই মত পদস্থ আধিকারিকদের। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অফিসার বদল কমিশনের কৌশলের অংশ। বিশেষ করে ভাঙড় ও বেলডাঙার মতো সংবেদনশীল এলাকায় নতুন আধিকারিক নিয়োগ করে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— ভোটে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
কমিশনের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট, আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে স্পর্শকাতর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের শীর্ষ স্তর ছাড়াও সিআইডি-র ডিআইজি সোমা দাস মিত্রকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) পদে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সুদীপ সরকারকে যুগ্ম কমিশনার (সদর) এবং দেবস্মিতা দাসকে যুগ্ম কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
ডিসি স্তরেও একাধিক রদবদল করেছে কমিশন। সাউথ ডিভিশনের ডিসি হয়েছেন ভি.এস.আর অনন্তনাগ, নর্থ ডিভিশনে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রদীপ কুমার যাদব। সাউথ ইস্ট ডিভিশনে আনা হয়েছে সৈকত ঘোষকে, যিনি আগে ভাঙড় ডিভিশনের দায়িত্বে ছিলেন। ইস্ট ডিভিশনের ডিসি হয়েছেন প্রশান্ত চৌধুরী। পাশাপাশি ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনীশ জোশীকে।
জেলা ও কমিশনারেট স্তরে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) পদে ইন্দ্রজিৎ সরকারকে নিয়োগ করা হয়েছে।আসানসোল-দুর্গাপুর থেকে রানা মুখোপাধ্যায়কে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (ইস্ট) পদে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) পদে দায়িত্ব পেয়েছেন চন্দন ঘোষ। পাশাপাশি
বেলডাঙার নতুন এসডিপিও হয়েছেন আনন্দজিৎ হোড়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি কমিশন রাজ্যে পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল হয় । ৮১ জন ইন্সপেক্টর এবং ৪৯ জন সাব-ইন্সপেক্টরকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এবার ফের কলকাতা পুলিশে ১৮ জন পুলিশ আধিকারিক এবং রাজ্য পুলিশে ২৯ জন পুলিশ আধিকারিক রদবদলের শিকার হয়েছেন।

