কমিশনের গাইডলাইন মান্যতার নজরদারিতে এবার পুলিশ পর্যবেক্ষক ওড়িশার আইপিএস
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন। কার্যত ভোটের দিনের অনেক আগে থেকেই রাজ্যকে পর্যবেক্ষকে মুড়ে ফেললেও স্বস্তি নেই কমিশনের। এবার ওড়িশা থেকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস সারাভান বিবেক এম-কে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে ডেপুটেশনে নিযুক্ত করল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত ওড়িশার ব্রহ্মপুর জেলার পুলিশ সুপার পদে কর্মরত সারাভানের আপাতত ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের সিইও দপ্তর। কমিশনের নির্দেশনামায় জানানো হয়েছে এই ডেপুটেশন পোস্টিংয়ে তাঁকে নির্বাচনী বঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নিয়মিত নজরদারি এবং কমিশনের গাইডলাইন যথাযথ মান্যতা পাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখে কমিশনকে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠানো। প্রয়োজনে রাজ্যের সিইও, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক ও কমিশনের সংযোগকারী হিসেবেও কাজ করতে হবে তাঁকে বলেও জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ জন (প্রতি বিধানসভায় একজন) সাধারণ পর্যবেক্ষক, ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং ১০০ জন নির্বাচনী আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত রয়েছেন। ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েবকাস্টিং সহ নির্বাচনী স্বচ্ছ্বতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। দুই দফার ভোটে ২৪০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ভোট পরিস্থিতি নজরদারির জন্য ত্রিস্তরীয় কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত দুঁদে আইএএস ও আইপিএস বিশেষ পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন। তার পরেও সিইও দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কমিশনের গাইডলাইন মান্যতা পাচ্ছে কিনা তা নিয়ে সর্বক্ষণের নজরদারিতে একজন ভিনরাজ্যের আইপিএসকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত নয় এই মনোভাব থেকেই এধরনের পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে।

