আদালত দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও ট্রাইবুনালে আটকে থাকা ভোটারদের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত !!
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভোটার তালিকায় সোমবার রাত ১২ টা থেকেই প্রথম দফার ভোটে নতুনভাবে নাম তোলার কাজ বন্ধ। প্রত্যাশিতভাবেই ট্রাইবুনালে ঝুলে থাকা প্রথম দফার লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটভাগ্য এখন অনিশ্চিত। সমাধান কোন পথে ? উত্তর জানতে বিচারব্যবস্থা তথা ট্রাইবুনালের দিকেই আঙুল দেখাচ্ছেন কমিশন কর্তারা। এই টানাপোড়েনে ট্রাইবুনালের অধীনে বিবেচনাধীন বা ডিলিট হওয়া বিবেচনাধীন ভোটাররা ট্রাইবুনালের পরীক্ষায় পাশ করলেও আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রবিবার ও সোমবার দুই ভোটপ্রার্থী সহ পাঁচ জনের জরুরি ভিত্তিতে অনলাইনে ট্রাইবুনালে শুনানি হয় এবং তাঁদের সবাইকে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আধিকার দেয় ট্রাইবুনাল। এই পাঁচ জনের নামই চুড়ান্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন সিইও। যদিও অন্যান্য যে বিচারাধীন ভোটাররা ইতিমধ্যেই ট্রাইবুনালে ভোটদানের আধিকার চেয়ে ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছেন তাঁদের কি হবে ? সিইও জানিয়েছেন, ” জোকায় কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরে যে ট্রাইবুনাল তৈরি হচ্ছে সেখানে সোমবার পর্যন্ত ১৯ জন বিচারকের মধ্যে ৬ জন বিচারকের বসার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয়েছে।” অর্থাৎ এখনও বেশিরভাগ অংশের কাজ বাকি রয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
যদিও সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইবুনালের ১৯ জন বিচারকের কাজ করার নির্দিষ্ট ফরম্যাট তৈরির জন্য মঙ্গলবারের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত তিন বিচারপতির একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এই কমিটি গঠন করবেন। সেই কমিটি গঠন করে কাজ শুরুর ফরম্যাট নিয়ে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করার মধ্যে ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামোর কাজ অনেকাংশেই শেষ হবে বলে আশাবাদী সিইও। যদিও বিচারাধীন ভোটারদের স্বার্থে এই কমিটি যাতে দ্রুত তাদের সিদ্ধান্ত জানায় সোমবারের নির্দেশনামায় সেকথাও উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত। অতএব যে বিপুল সংখ্যার মানুষ এখনও ভোটাধিকার পাওয়ার আশায় ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁদের ভোটভাগ্য যে অনিশ্চিত তা গোটা ঘটনাক্রম থেকেই পরিষ্কার।

