হেডলাইন

আনম্যাপড ভোটার কত ? কমিশনের অনিশ্চয়তায় প্রশ্নের মুখে এসআইআর

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের পাহাড় ক্রমশই বাড়ছে। অথচ উত্তর এখনও অধরাই নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন নিজেই স্বীকার করেছে—কতজন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, কতজন হাজির হয়েছেন কিংবা কতজন নথি আপলোড করেছেন, তার কোনও পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও তাদের হাতে নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আনম্যাপড ও লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের সংখ্যা নিয়ে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রায় এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম এই ক্যাটাগরিতে পড়েছে। যার মধ্যে আনম্যাপড হিসেবে চিহ্নিত ভোটারদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ শুনানিতে গরহাজির। যদিও যারা হাজির হয়েছেন তাঁদের চূড়ান্ত তালিকা, নোটিসের সংখ্যা বা শুনানিতে উপস্থিতির নির্ভুল তথ্য—কিছুই এখনও স্পষ্ট নয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ায় একাধিক ক্ষেত্রে অ্যাপ ও সার্ভার সংক্রান্ত ত্রুটিতে তথ্য আপডেট হচ্ছে না। ফলে শুনানিতে হাজির থেকেও অনেক ভোটারের নাম সিস্টেমে ‘অনুপস্থিত’ দেখাচ্ছে, কোথাও আবার নথি জমা পড়লেও তার স্ট্যাটাস বদলায়নি। আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইআরও বা এইআরও-রা সময়মতো বা প্রযোজনীয় ডেটা আপলোড করছেন না বলেও জানতে পেরেছে কমিশন। ইতিমধ্যেই ২৬ জানুয়ারির মধ্যে সমস্ত বকেয়া তথ্য ইসিআইনেট-এ আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে আনম্যাপড ও লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে ভোটারদের পৃথক তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিলেও তথ্য যাচাইয়ের অজুহাতে কমিশন সময় চাইছে বলে খবর। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার বিকেল পর্যন্ত এনিয়ে কমিশন কোনও তথ্য না পাঠানোয় শনিবারও জেলায় জেলায় আদালতের নির্দেশ মোতাবেক লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের তালিকা টাঙানো সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ত্রুটিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে। যদিও কমিশনের দাবি, কাউকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য নেই। তবে তথ্য ও স্বচ্ছতার অভাবেই এখন প্রশ্নের মুখে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া।

Share with