হেডলাইন

অতিরিক্ত সাতদিনে বিএলও-ইআরও দের নয়া গাইডলাইন সিইও দপ্তরের

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

এসআইআর প্রক্রিয়ার মেয়াদ সাত দিন বাড়ানোর পাশাপাশি বিএলও এবং ইআরও-দের দায়িত্বও বাড়ালো কমিশন। সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেই বিএলও-দের দায়িত্বে ছুটি নয়। বরং পরবর্তী একমাস ব্যাপী ক্লেমস এন্ড অবজেকশন ধাপেও বিএলও-দের নানা দায়িত্ব থাকবে। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের স্পর্শকাতর বুথগুলি ধরে ধরে একদিকে বিএলও-দের যেমন নয়া দায়িত্ব দিয়েছে সিইও দপ্তর, তেমনি জন্ম-মৃত্যু পোর্টাল সহ সংশ্লিষ্ট মাধ্যম গুলোকে কাজে লাগিয়ে মৃত ভোটারের তথ্য যাচাই এর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইআরও-দের। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় ইআরও এবং বিএলও-দের জন্য সিইও দপ্তরের এই গাইডলাইন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কাজের সুবিধার জন্য এবং তথ্য যাচাইয়ের পর সঠিক তথ্য লিপিবদ্ধ করার জন্য বিএলও অ্যাপে আপলোড হওয়া তথ্যকেও পরিবর্তন বা সংশোধন করার বিশেষ এপ্লিকেশন সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সব বিএলও-দের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবারের মধ্যে পুরণ করা ফর্ম এবং এখনো দেওয়া হয়নি এরকম ফর্ম আপলোড করতে হবে। সমস্ত ফর্মের স্টেটাসও আপলোড করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিএলও-দের সিইও দপ্তরের স্পষ্ট বার্তা-১১ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি কোনো ফর্ম দেওয়া বাকি থাকে তাহলে সেগুলো অসংগৃহীত বলে গণ্য হবে এবং পোর্টালেও সেই স্টেটাস আপলোড হবে। কোনও তথ্য অস্থায়ী কর্মীদের দ্বারা পূরণ হয়েছে কিনা তা এই অতিরিক্ত এক সপ্তাহে খতিয়ে দেখতে হবে বিএলও-ইআরও দের। যদি এই ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি থাকে তাহলে দায়ী হবেন সংশ্লিষ্ট বিএলও, জানিয়েছে সিইও দপ্তর।
চলতি সপ্তাহের শেষদিকে এই বিষয়গুলি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সব অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন CEO মনোজ কুমার আগরওয়াল।

খসড়া ভোটার তালিকাকে নির্ভুল করতে বিএলও এবং ইআরও-দের জন্য সিইও দপ্তর সোমবার যে অতিরিক্ত গাইডলাইন জেলায় জেলায় পাঠিয়েছে সেগুলি হল—
## ২০২১ ও ২০২৪-এর ভোটে চিহ্নিত স্পর্শকাতর বুথগুলির তথ্য বিশদে খতিয়ে দেখায় অগ্রাধিকার

## ২০০২-এ ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের তথ্য ফের খতিয়ে দেখতে হবে।

## ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় অভিভাবক হিসাবে যাদের নাম আছে অথচ BLO-দের ম্যাপিংয়ে অভিভাবক হিসেবে নাম ম্যাচ করছে না তাদের তথ্য ফের খতিয়ে দেখতে হবে।

## ২০০২-এর ভোটার তালিকায় অভিভাবক হিসাবে থাকা নামের সঙ্গে ভোটারদের বয়সের ব্যবধান যদি ৪৫ বছরের বেশি বা ১৮ বছরের কম হয় সেই তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে।

## বাড়িতে অনুপস্থিত কোনও ভোটারের হয়ে তার পরিবারের কেউ ফর্মে সই করলে বিএলও সেই অনুপস্থিত ভোটারকে ফোন করে বা তার বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন। সেই ভোটারের আস্তিত্ব যাচাই করবেন এবং তিনি দেশের অন্য কোনও এলাকার ভোটার কিনা তাও খতিয়ে দেখবেন।

## জন্ম-মৃত্যু তথ্য পোর্টাল বা জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রার অথবা রেশন কার্ড বাতিলের ডেটা থেকে মৃত ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট ইআরও-দের।

## কোনও বুথে মৃত ভোটারের সংখ্যা শূন্য বা সর্বোচ্চ ১০জন, সেক্ষেত্রে এই বুথগুলির তথ্য নতুন করে যাচাই করতে হবে

অন্যদিকে, সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে সোমবার রাত পর্যন্ত চিহ্নিত হওয়া মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ ও ভূয়ো ভোটারের সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ৪৩ হাজারের কিছু বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে খসড়া ভোটার তালিকায়। যেহেতু এখনও সময় বাকি তাই সংখ্যাটা বাড়তে পারে বলে ধারণা। জে চারটি ক্যাটাগরিতে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারদের নাম বাদের সম্ভাবনা (সোমবার রাত পর্যন্ত) সেগুলি হল,
মৃত ভোটার – ২১,৪৫,০০০, নিখোঁজ ভোটার – ৫,৫৩,০০০,
স্থানান্তরিত ভোটার -১৫,১৩,০০০
এবং ভুয়ো ভোটার – ৯৮,৬০০।

Share with