অ্যাডমিট কার্ডকে মান্যতা দিলেও সঙ্গে নিতে হবে পরীক্ষা পাসের সার্টিফিকেট, নয়া নির্দেশিকা কমিশনের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দেওয়ার পর মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে এসআইআর-এর নথি হিসেবে গ্রহণীয় বলে জানালো নির্বাচন কমিশন। আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে শুনানিকেন্দ্রে মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেটের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন ভোটাররা বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানালো নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে গেলেও ওই ভোটারকে মাধ্যমিক পাস করেছেন সেই প্রমাণপত্র দেখতে হবে। উল্লেখযোগ্য, রাজ্যে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডকে বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে মান্যতা দিতে সিইও মনোজ আগরওয়াল অগেই কমিশনকে প্রস্তাব দিলেও সর্বভারতীয় পরিস্থিতির কারণ দর্শিয়ে তা নাকচ করে দেয় কমিশন।একইসঙ্গে বুধবার লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি ও ভোটারদের নাম সংযোজন, বিয়োজন এবং তথ্য সংশোধন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তাকে মান্যতা দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা বিজ্ঞপ্তি আকারে ঘোষণা করলো নির্বাচন কমিশন।
ভোটার তালিকার এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে বুধবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জনিয়েছে কমিশন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে যেসব ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ এবং ‘আনম্যাপড’ শ্রেণিভুক্ত হয়েছে, সেই সমস্ত নামের তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, জনসমাগমস্থল এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে টাঙানো হবে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট ভোটাররা নিজেরা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে (প্রয়োজনে বুথ লেভেল এজেন্ট বা BLA-র মাধ্যমেও) নথি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। এর জন্য ভোটারের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ-সহ একটি অথরিটি লেটার জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটার তালিকার অংশের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন/ব্লক অফিস/ওয়ার্ড অফিসে শুনানি ও নথি জমার ব্যবস্থা করতে হবে। নাম প্রকাশের পর ১০ দিনের অতিরিক্ত সময়সীমা দেওয়া হবে, যাতে যাঁরা এখনও দাবি বা আপত্তি জানাননি, তাঁরাও সুযোগ পান।
শুধু নথি গ্রহণই নয়, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ERO/AERO-র মাধ্যমে শুনানির সুযোগ দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুনানি সরাসরি বা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হতে পারে। পাশাপাশি নথি গ্রহণ ও শুনানির বিষয়টি লিখিতভাবে রসিদ ও শংসাপত্র দিয়ে নিশ্চিত করা হবে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, এই সমস্ত নথি ও শংসাপত্র BLO অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে। জন্মতারিখ প্রমাণের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড মাধ্যমিক পাস সার্টিফিকেটের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশগুলি ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোরভাবে মানতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

