হেডলাইন

ভোটার ম্যাপিংয়েও একাধিক বুথে ‘শূন্য বিভ্রাট’! খতিয়ে দেখার নির্দেশ বিস্মিত কমিশনের

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

অসংগৃহীত গণনাপত্রের পর ভোটার ম্যাপিংয়েও শূন্য বিভ্রাট। ফের আসরে নির্বাচন কমিশন।

অসংগৃহীত গণনাপত্রের পর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ম্যাপিং এর ক্ষেত্রেও আজব কাণ্ড। কোচবিহার থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, বিভিন্ন জেলার একাধিক বুথে ‘সেল্ফ ভোটার’ এর ম্যাপিংয়ের সংখ্যা শূন্য। অর্থাৎ, ২০০২ এবং ২০২৫ দুই ভোটার তলিকাতেই যারা ভোটার এবং ম্যাপিংয়ের জন্য যাদের পুর্বপুরুষদের পরিচয় প্রয়োজন নেই। আর ‘সেল্ফ ভোটার’ শূন্য মানে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে এমন কোনও ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। ভোটার ম্যাপিং করতে গিযে এই তথ্য মিলেছে যেখানে বর্তমান ভোটারদের মধ্যে কেউ ২০০২ সালে ভোটার ছিলেন না। অর্থাৎ ২৩ বছর আগে বর্তমান ভোটাররা কেউই ভোটার ছিলেন না। কোচবিহারের দিনহাটা বিধানসভার ১১০ নম্বর পার্ট ( মোট ভোটার ৭৮২), হুগলির পাণ্ডুয়া বিধানসভার ৫৩ নম্বর পার্ট ( মোট ভোটার ৬৬৮), দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলতলি বিধানসভার ৪৮ নম্বর পার্ট ( মোট ডিজিটাইজড ভোটার ৭৬৮) সেল্ফ ভোটারহীন। ওই বুথ এলাকায় বর্তমান ভোটারদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি ২০০২ সালে ভোটার ছিলেন! নিজেকে দিয়ে নয় সকলেই তাঁদের বাবা-মা অথবা দাদু-ঠাকুর্দাদের দিয়ে ম্যাপিং করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এই বুথ এলাকায় তাহলে ৪১-৪২ বছর বা তার বেশি বয়সী ভোটার কেউ নেই যিনি ২০০২ সালে ভোটার ছিলেন?

এধরনের তথ্য কমিশনের সার্ভারে আপলোড হতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কমিশন এধরনের আজব তথ্য উদ্ধার করে এবং এগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখতে সিইও এবং রোল অবজার্ভারদের নির্দেশ দিয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে মূলত অনলাইনে ভোটারদের গণনাপত্র পুরণ করা হয়েছে যেখানে ‘নট ভেরিফাযেড বাই বিএলও’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিইও দপ্তরের দাবি , ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে ফর্ম পুরণ করা হয়েছে। বিএলও-কে কাজ করানো হয়নি। তাই এধরনের আজব কাণ্ড ঘটেছে। যদিও গাফিলতি প্রমাণ হলে গোটা ঘটনার জন্য বিএলও-রাই অভিযুক্ত হবেন এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সিইও।

সিইও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভোটার ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু ‘সেল্ফ ম্যাপিং’ নয়, ‘প্রোজেনি ম্যাপিং’ (Progeny Mapping) নিয়েও যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বর্তমান ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও ২০০২ ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই, বাবা-মা অথবা পুর্বপুরুষের পরিচয়ে যারা ২০০২ তালিকার সঙ্গে ম্যাচিং করিয়েছেন সেটাই হল প্রজেনি ম্যাপিং। এক্ষেত্রেও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

 

মঙ্গলবার ‘সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হল।

Share with