ভোটার তালিকা তৈরির বিধিবদ্ধ গাইডলাইন জানিয়ে ডিইও-ইআরও দের চিঠি দিলেন সিইও
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়–
রাজ্যে এসআইআর চালুর বিজ্ঞপ্তি কবে হবে তা এখনও নির্দিষ্ট নয়। তার আগেই ভোটার তালিকা সংশোধনে ইআরও এবং এইআরও-দের কি করণীয় নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী বর্ণিত গাইডলাইন জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী এই গাইডলাইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনকর্মীদের শাস্তির নিদান কি হতে পারে তা উল্লেখ করে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-দের এব্যাপারে কড়া নজরদারি করারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৩এ ধারা অনুসারে ভোটার তালিকা তৈরি, পরিমার্জন ও সংশোধনের কাজে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী গোটা কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ করার আধিকারি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বুধবার রাজ্যের সমস্ত ডিইও, ইআরও ও এইআরও-দের দেওয়া চিঠিতে রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্টভাবে একথা জানিয়ে দেন। চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, ওই আইনের ১৩এএ (৩) ধারা অনুযায়ী লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জেলাস্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পরামর্শক্রমে জেলা নির্বাচন আধিকারিক বা ডিইও গোটা কর্মকাণ্ডের তদারকি করবেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩বি এবং ১৩সি ধারা অনুযায়ী বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা তৈরির যাবতীয় দায়-দায়িত্ব বর্তাবে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার ইআরও বা ইলেক্টোরোল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং এসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা এইআরও-র ঘাড়েই। ১৩সিসি ধারা অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যে যে সরকারি কর্মীরা যুক্ত থাকবেন তারা সকলেই তালিকা তৈরি থেকে সংশোধনের কাজ যতক্ষণ সম্পূর্ণ না হচ্ছে ততদিন তারা ওই নির্দিষ্ট কাজের জন্য ডেপুটেশনে পোস্টিং হিসেবে নির্বাচন কমিশনের আওতাভুক্ত থাকবেন। ভোটার তালিকা তৈরির কাজে অথবা ভোটারদের নাম সংযোজন বা বিয়োজনের কাজ যেহেতু বিধিবদ্ধ কাজ সেক্ষেত্রে যদি সঙ্গত কারণ ছাড়া কোনও নির্বাচনকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১( ১) ধারা অনুযায়ী ওই নির্বাচনকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি জেল ও জরিমানা হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে যে বিধিবদ্ধ গাইডলাইন রয়েছে তা হল—
## ইআরও এবং এইআরও দের কাজ যেহেতু বিধিবদ্ধ তাই নিজেদের দায়িত্ব তারা অন্য কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করতে পারবেন না
## কোন অবস্থাতেই ইআরও এবং এইআরও-রা
ইআরও নেট লগইন আইডি এবং ওটিপি কোন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর বা অন্য কোন পদাধিকারীকে জানাতে পারবেন না
## তথ্যপ্রযুক্তিগত কারণের জন্য শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মী আথবা রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বেতনভূক সিস্টেম ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সাহায্য নেয়া যাবে
## বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা সরেজমিনে ভোটার যাচাইকরণ করে যে রিপোর্ট দেবেন সেক্ষেত্রে নিজেদের কোন বিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না সংশ্লিষ্ট ইআরও বা এইআরও-রা।
## কমিশনের গাইডলাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে ইআরও এবং এইআরও-রা যথাযথ কাজ করেছেন কিনা তার যাবতীয় নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন ডিইও বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা।
## কোথাও কোন রকম ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে ১৯৫০ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ করতে হবে ডিইও-কে। দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে প্রশ্নের মুখে পরবেন ডিইও বা জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও।
–‐—-
রাজ্যে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা তৈরির কাজে কারচুপি করায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন চারজন ইআরও এবং চারজন এইআরও। দুজন ইআরও এবং দুজন এইআরও সাসপেন্ড হয়েছেন। সাসপেন্ড করা হয়েছে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকেও। এই ঘটনার কথা মাথায় রেখেই চিঠিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সমস্ত ইআরও এবং এইআরও-দের বিধিবদ্ধ গাইডলাইন ফের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

