বিশেষহেডলাইন

ভোটবুথে ভোটার নথি যাচাইয়ে বিএলও-র সঙ্গে থাকবেন বাহিনীর জওয়ানরাও

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

ভোট বুথের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বের পাশাপাশি এবার বুথের সামনে ভোটারদের নথি পরীক্ষা থেকে বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটের লাইন তদারকি করবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নির্বাচন কমিশনের নয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুথের প্রবেশপথের সামনে একটি টেবিল নিয়ে বসবেন সংশ্লিষ্ট বিএলও বা বুথ লেভেল অফিসার। ভোটার যখন ভোট দিতে বুথে প্রবেশ করবেন তখন তাঁর নাম ভোটার তালিকার কোথায় আছে তা দেখে নিয়ে ভোটদানের জন্য প্রয়োজনীয় নথি এনেছেন কিনা তাও দেখে নেবেন। বিএলও-র সঙ্গে থাকবেন কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দু’জন জওয়ান। যাদের তদারকিতে সম্পন্ন হবে গোটা প্রক্রিয়া। একইসঙ্গে ভোট বুথের বাইরে ভোটারের মোবাইল রাখার যে আলাদা ব্যবস্থা এবারের নির্বাচন থেকে চালু করছে কমিশন তার দায়িত্বও পালন করবেন কর্তব্যরত জওয়ানরা। যেহেতু বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে রাজ্য পুলিশের কোনও স্থান নেই তাই বুথের বাইরে বা বুথ চত্বরে স্বাভাবিকভাবেই ভোটের লাইন তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাই। রাজ্যের ৮০ হাজার ৭১৯ বুথেই বাহিনীর জওয়ানদের এই নয়া ভুমিকায় দেখা যাবে ভোটের দু’দফাতেই।

প্রসঙ্গত, ভিনরাজ্যের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কাজে লাগিয়ে ভোটারদের নথি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনের কাজে যুক্ত পদস্থ আধিকারিকদের একাংশের মতে, অতীতে এই ধরণের অশান্তির নজির রয়েছে। বিশেষ করে যে অভিযোগ বেশি পাওয়া যায় যে ভিনরাজ্যের জওয়ানরা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এরাজ্যের সাধারণ ভোটারদের ভোটের লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করেন। এপিক কার্ড বা ভোটার কার্ডসহ ১২ টি পরিচয়পত্র দিয়ে ভোটদানের আধিকার থাকা সত্বেও নিজেদের মর্জিমতো জওয়ানরা ভোটারদের উপর খবরদারি করেন বলেও বহু অভিযোগ ও গন্ডগোলের উদাহরণ রয়েছে অতীতে। যদিও কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তার মতে , ” শুধু বুথের ভিতরে নয় বুথের বাইরেও গোটা পরিস্থিতি এবার ত্রিস্তরীয় পদ্ধতিতে নজরদারি চলবে। বাহিনীর জওয়ানরাও তার বাইরে নয়। পাশাপাশি সেক্টর অফিসার ও পর্যবেক্ষকরাও রয়েছেন পরিস্থিতির নজরদারির জন্য। ” প্রসঙ্গক্রমে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলখুচির ঘটনা এখনও দগদগে। মূলত, ভোটের লাইনে অসুস্থ হয়ে পড়া এক কমবয়সী ভোটারের অসুস্থ হয়ে পড়ায় যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান জওয়ানরা তখন বাহিনীর মারধোরের জেরে ঘটনার অভিযোগ তুলে ধুন্ধুমার বাধে। ভাঙচুর করা হয় বাহিনীর গাড়ি, উত্তাল হয়ে ওঠে বুথ চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিআইএসএফ জওয়ানদের গুলিতে নিহত হন চার নিরীহ ভোটার। যে ঘটনা রাজ্য-রাজনীতি তো বটেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে। যদিও এবারের কড়া নজরদারি ও বিএলও-র উপস্থিতিতে বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে ভোটার পরিচয়পত্র যাচাই ও ভোটের লাইনের তদারকিতে একুশের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তা নিয়ে সতর্ক কমিশন বলেও জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা।

Share with