হেডলাইন

ভোটের ডিউটি’ দেখিয়ে আইনের ফাঁককে বর্ম করে লিখিত নির্দেশ ছাড়াই প্রাইভেট নম্বর গাড়ি বাজেয়াপ্ত ?!

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

আইনের ফাঁক-কে বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশিকা তথা ক্ষতিপূরণের নোটিশ ছাড়াই রাস্তা থেকে প্রাইভেট নম্বরের গাড়ি ভোটের ডিউটির নামে বাজেয়াপ্ত করছে পুলিশ বলে কলকাতা সহ একাধিক জেলায় অভিযোগ উঠেছে। শুধু কমার্শিয়াল নম্বর (হলুদ নম্বর প্লেট) নয় প্রাইভেট নম্বরের (সাদা নম্বর প্লেট) গাড়িও (চারচাকা) রাস্তা থেকে তুলে নিচ্ছে পুলিশ। যা নিয়ে সাধারন মানুষের সঙ্গে পুলিশ কর্মীদের ঝামেলা-অশান্তিও অব্যাহত। অবশ্য নিয়ম না মেনে জোর করে পুলিশ যদি গাড়ি আটক করে তাহলে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে আশ্বাস কমিশনের পদস্থ কর্তা ও আধিকারিকদের।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ, পুলিশ লিখিত নোটিশ ছাড়া রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে গাড়ি আটক করছে। প্রথমে আরসি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স চাইছে, তারপর গাড়ি আটক করছে। গাড়ি হস্তান্তরে ব্যক্তি মালিক অস্বীকার করলে কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। কিছুক্ষেত্রে ডিএম অফিসের জারি করা প্রাক-স্বাক্ষর বা ফাঁকা ফর্ম-বি রিকুইজিশন স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র গাড়ির নম্বর পূরণ করে গাড়ির মালিককে তা দিয়ে গাড়ি হস্তান্তর করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। ফিবছর নির্বাচনে ভোটের ডিউটির জন্য পুলিশের গাড়ি ধরার ছবি পরিচিত। এবারের নির্বাচন মাত্র দুই দফায়, তাই বাহিনী থেকে ভোটকর্মীর সংখ্যা যেমন বেশি তেমনি পর্যবেক্ষক থেকে নির্বাচনী আধিকারিকদের সংখ্যাও বহুগুণ বেড়েছে। তাই প্রয়োজন পড়ছে অতিরিক্ত গাড়ির। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের ঘাড়ে বাড়তি দায়িত্ব বর্তেছে অতিরিক্ত গাড়ি জোগাড় করার। তবে আইন ভঙ্গ হলে পুলিশও পার পাবে না বলছেন আধিকারিকরা।

প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ কি ভোটের কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করতে পারে ? উত্তর হল ” হ্যাঁ, পুলিশের আইনি আধিকার আছে।” তবে সেক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি পদ্ধতিও আছে। ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-র ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য রাজ্য সরকার যানবাহন বাজেয়াপ্ত করতে পারে। তবে ভারতীয় জন প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১ এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধি, ১৯৬১-র নির্দিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের
লিখিত আদেশ বা অনুরোধ অবশ্যই থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক অথবা ডিইও কর্তৃক লিখিত আদেশ ছাড়া কোনও গাড়ি আটক করা যাবে না। পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ১৬১ অনুযায়ী গাড়ির মালিককে অনুমোদিত দৈনিক হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও উল্লেখ থাকতে হবে ওই লিখিত নির্দেশিকায়। সমস্যা হচ্ছে ১৬০ ধারায় শুধুমাত্র “যানবাহন” উল্লেখ করা হয়েছে এবং মোটর ভেহিকেল আইনের ৬৬ ধারা যানবাহনকে ব্যক্তিগত, পাবলিক বা পরিবহন হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। সুতরাং পুলিশ এমভি আইনের ৬৬ ধারাকে যেকোনও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার জন্য বর্ম হিসেবে ব্যবহার করে।

এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিককে কি করা উচিৎ?

১. আসল আরসি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পুলিশের হাতে হস্তান্তর করবেন না। কাগজপত্র চাইলে শুধু ডিজি লকার দেখান। বলুন আপনার কাছে শুধু ডিজি লকার আছে এবং এটা গ্রহণযোগ্য।
২। যদি আপনাকে গাড়ি দিতে বলা হয় তখন আপনি তাদের একটা কারণ দেখান যে কেন আপনি গাড়ি দিতে পারবেন না। তাদের বলুন যে প্রতিদিন একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে বা শিশুকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ব্যবহার করা হয়। বাচ্চার স্কুল আইডি বা ঔষধের বিল/প্রেসক্রিপশন থাকলে দেখান। যদি এটা কাজ না করে তাহলে তাদের স্পষ্ট বলুন ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬০ ধারা অনুযায়ী জেলাশাসক স্বাক্ষরিত লিখিত অনুরোধ ছাড়া গাড়ি হস্তান্তর করা যাবে না।
উল্লেখযোগ্য, এই লিখিত নির্দেশ গাড়ির মালিকের ঠিকানায় নিবন্ধিত পোস্টে বা হাতে হাতে দিতে হবে। আদেশে ডিএম/এডিএম স্বাক্ষর সহ ক্ষতিপূরণের ফি এবং গাড়ি হস্তান্তরের তারিখ এবং স্থান উল্লেখ থাকতে হবে। যদি এগুলো উল্লেখ না থাকে তাহলে তা বৈধ আদেশ নয়।

Share with