হেডলাইন

বহুতলে ভোটবুথে আপত্তি জানিয়ে চিঠি আবাসন মন্ত্রীর, সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগে মরিয়া কমিশন

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রী আগেই আপত্তি জানিয়ে সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন। এবার রাজ্যের সিইওকে চিঠি দিয়ে বহুতলে ভোটের বুথ তৈরিতে আপত্তির কথা জানালেন রাজ্যের আবাসন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রত্যুত্তরে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয়। ফলে, চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কমিশন সূত্রে খবর, বহুতল আবাসনে ভোটের বুথ হলে আবাসিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় যেমন হস্তক্ষেপ করা হবে তেমনি সংরক্ষিত জায়গায় বহিরাগতদের প্রবাদ বিচরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই যুক্তিতে স্বরব হয়ে রাজ্যের আবাসন মন্ত্রী সিইও দপ্তর এর কাছে জানতে চান এর আগেও একাধিকবার বহু তলে ভোটের বুথ তৈরি নিয়ে রাজ্য আপত্তি জানানো সত্বেও কেন বারবার এই কর্মসূচিরও পারে নাই চাপ সৃষ্টি করছে কমিশন তারও সদুত্তর চেয়েছেন আবাসনমন্ত্রী। শনিবারের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী যে এর আগে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আবাসন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যদিও সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচন কমিশন। তাই মন তুই চিঠিও নির্বাচন কমিশনের কাছেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে দেশের সংবিধানের ৩২৪ ধারা প্রয়োগের আধিকারি একমাত্র নির্বাচন কমিশন। এই ধারার মূলত দুটি ভাগ রয়েছে। প্রথমটি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা এবং দ্বিতীয়টি ভোটার তালিকা ও ভোটের বুথ তৈরি করা। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এবং সমস্ত ভোটারকে ভোটদানের আধিকার পাইয়ে দিতে বা ভোট প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে সংবিধানের এই ৩২৪ ধারাকেই প্রয়োগ করতে চায় কমিশন। সে কাননেই বহু দলে ভোটের বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এবং সেই অনুযায়ী বহু দলের তালিকা তৈরি করে কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহুতলে ভূত তৈরি নিয়ে রাজ্যের অসুবিধা কোথায় পাল্টা সেই প্রশ্ন তুলছে কমিশনের পদস্থ আধিকারিকরা।স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বহুতলে ভোটের বুথ তৈরি নিয়ে রাজ্য কমিশন সংঘাত ফের নতুনভাবে রাজনৈতিক পারা চড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

উল্লেখযোগ্য, আগামী ২২ ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্যের বহুতলগুলির তালিকা সিইও দপ্তরে পৌঁছনোর কথা। রাজ্যের ডিইওরা এই তালিকা তৈরি করে সিইও দপ্তরে পাঠাবেন। এরপরই ওই তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে নির্বাচন কমিশনে। সেই তালিকা ধরেই রাজ্যে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কতগুলো বহুতলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হবে কমিশনের তরফে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Share with