হেডলাইন

বিচারক হামলার ঘটনায় কমিশন-শাসক সংঘাত তুঙ্গে, তদন্তে এনআইএ, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ওড়ালেন সিইও

 

সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়

মালদায় বিচারকদের উপর হামলার ঘটনায় ফের একবার কমিশন-শাসক সংঘাত তুঙ্গে। মালদার ঘটনাকে সামনে রেখে যখন মুখ্যমন্ত্রী কমিশন-বিজেপি যোগসাজশের অভিযোগ তুলে রাজ্যে “রাষ্ট্রপতি শাসান” জারির পরিকল্পিত চক্রান্তের গন্ধ খুঁজছেন তখন নির্বাচন কমিশন পুলিশ-প্রশাসনের স্বচ্ছ্বতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যে গুন্ডাদের প্রশ্রয় ও আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচন ঘোষণার পর প্রশাসনিক ক্ষমতা কার্যত কমিশনের হাতে থাকলেও, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। পাল্টা রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের প্রতিক্রিয়া, ” এখানে নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা কি ? রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কার হাতে তা সবাই জানে। তাছাড়া রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো আছেন। স্থানীয় প্রশাসনকেই তো পরিস্থিতি সামলাতে হবে। ডিজিপি তো কলকাতা থেকে স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবেন না!”

বস্তুত, বুধবার মালদায় বিচারকদের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র ভর্ৎসনা করে। সিবিআই না এনআইএ কোন এজেন্সি দিয়ে ঘটনার তদন্ত হবে তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনকেই। কমিশন অবশ্য এনআইএ-কে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এনআইএ-র তদন্ত আধিকারিককে ভার্চুয়ালি হাজির থাকতে হবে। পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মালদার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ-প্রশাসনকে তুলোধনা করে প্রয়োজনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করে (সরাসরি বরখাস্ত) ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই পরিস্থিতির ‘নীল নকশা’ তৈরি করছেন। তাঁর কথায়, “দাঙ্গা বাঁধানোর ফাঁদে পা দেবেন না। এটা বিজেপির পরিকল্পনা।মানুষের প্রতিবাদের অধিকার আছে, কিন্তু বিচারক বা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের গায়ে হাত তোলা চলবে না।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, ” এই ঘটনাকে ব্যবহার করে গোটা বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে।”
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ করেন, রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যায় নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, গরিব ও মহিলাদের। এমনকি তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও বহু নাম বাদ গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Share with