বিচারকদের যুক্ত করতেই ৭২ ঘণ্টা পার !! যোগ্য বিচার মিলবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়?
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার এসআইআর নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করলেন। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত হাইপ্রোফাইল বৈঠকে ওটিপি, লগ ইন আইডি ও পোর্টাল সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। রাজ্যের সিইও সহ দপ্তরের আধিকারিক এবং মুখ্যসচিব, ডিজিপি ও স্বরাস্ট্রসচিবের উপস্থিতিতে বৈঠক করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। বৈঠকে জটিলতা নিরসনে প্রযোজনীয় বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ শেষে ২০০ জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ ইন আইডি সংক্রান্ত সমস্যা মিটিয়ে দেয় কমিশন। জানা গেছে, সোমবার থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার নথিস যাচাইয়ের কাজ পুরোদমে শুরু করবেন। এরপর ধাপে ধাপে বাকি জুডিশিয়াল অফিসারদের লগইন আইডি সহ প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করে কাজে লাগানো হবে। তবে ঠিক কত সংখ্যায় ভোটার সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যুক্ত হবেন তা নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেনি সিইও দপ্তর তথা নির্বাচন কমিশনের পদাধিকারিরা।
পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, ২৯৪ জন ইআরও এবং ৮ হাজারের বেশি এইআরও
যে কাজে যুক্ত ছিলেন সেখানে এখনও পর্যন্ত ২০০ থেকে ২৫০ জন জেলা ও দায়রা বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের দিয়ে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ এত অল্প সময়ের মধ্যে কতটা সম্ভব তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বস্তুত, গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে উদ্ভুত জটিলতা নিরসনে বিচারব্যবস্থাকে যুক্ত করে জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে মথি যাচাই করার নজিরবিহীন নির্দেশ দেয়। যদিও হাইকোর্ট তথা জেলা স্তরের বিচারকদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা বা প্রশিক্ষণ না থাকায় নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পৌরহিত্যে বৈঠক করে যাবতীয় ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে বলা হয়। সেই নির্দেশের ৭২ ঘণ্টা পেরোলেও জুডিশিয়াল অফিসারদের নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার পরেও কাজ শুরু করা যায়নি। প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা এবং লগ ইং আইডি নির্দিষ্ট না হওয়ায় গতকালের পর আজ ফের হাইকোর্টে আসতে হয় কমিশন ও রাজ্যের শীর্ষকর্তাদের। বৈঠকে জুডিশিয়াল অফিসারদের কোন জায়গায় সমস্যা হচ্ছে তা বুঝিয়ে বলেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তখন সি ই ও মনোজ কুমার আগরওয়াল যেকোনো সমস্যায় নির্বাচন কমিশন সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। রাজ্যে নিযুক্ত স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত সহ কমিশনের অন্যান্য আধিকারিকরা সমস্যা নিরসনের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেন। মূলত, সোমবার দুপুর থেকেই প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়। অবশেষে ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটিয়ে তাঁদের নির্বাচনী কর্মক্ষম করে তোলা হয়। যদিও গতদিনের পর সোমবারও
বাংলার বাড়ি প্রকল্পের শংসাপত্র নথি হিসেবে মান্যতা পাবে না কেন এনিয়ে রাজ্যের পক্ষে প্রশ্ন তোলা হয। যদিও কমিশনের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত বলে জানিয়ে দেন সিইও।
অবশ্য এত ঢক্কানিনাদ করেও এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের স্বার্থরক্ষা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই গিয়েছে। প্রযুক্তির সমস্যা ও নানা বিধিনিয়মের মধ্যে থেকে অনভিজ্ঞদের স্বল্প সময়ে প্রশিক্ষিত করে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ দ্রুত শেষ করা যে একপ্রকার অসম্ভব তা বলাই বাহুল্য। আপাতত ৯ মার্চ পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ‘ভোটের ডিউটি’র জন্য জুডিশিয়াল অফিসারদের সমস্ত ছুটি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। যদি ধরেও নেওয়া হয় মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে তাহলে ভোট ঘোষণায় কমপক্ষে আরও সপ্তাহখানেক দেরি হতে পারে বলে মত কমিশনের কর্তাদের। তবে কমিশন নির্দিষ্ট নথির ভিত্তিতে লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির জট কাটিয়ে প্রতিটি ভোটারকে সুবিচার দিতে পারবেন কি জেলাস্তরের বিচারকরা? এই প্রশ্নই এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে কমিশন থেকে হাইকোর্টের অন্দরে।

