বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের ‘টপ প্রায়োরিটি’ তালিকায় ৬২ আসন?
Exclusive
রাজ্যের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের পথে বামফ্রন্ট। সব আসনে সমান জোর না দিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এবার ‘বাছাই করা আসন’কেই পাখির চোখ করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সিপিএম সূত্রে খবর, অন্তত ৫০ থেকে ৬২টি আসনকে ‘টপ প্রায়োরিটি’ তালিকায় রেখে সেই সব এলাকায় সংগঠন চাঙা করা, প্রচারে বাড়তি জোর দেওয়া এবং পরিচিত মুখদের প্রার্থী করার পরিকল্পনা নিয়েছে নেতৃত্ব।
দলের বিশ্লেষণ বলছে, বুথ স্তরে সংগঠন তলানিতে, তৃণমূল বিরোধী ভোটের বড় অংশই স্থানান্তরিত হয়েছে বিজেপির দিকে। ফলে ২৯৪টি আসনে সমান উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো সাংগঠনিক শক্তি নেই এখন বামফ্রন্টের। যদিও সিপিএম জানিয়েছে, সব আসনেই তারা প্রার্থী দেবে, তবে নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু থাকবে নির্দিষ্ট কয়েকটি শক্তিশালী আসন।
‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’র রুটম্যাপ পর্যালোচনা করলেই গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলির ইঙ্গিত মিলছে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর, হুগলির উত্তরপাড়া, কলকাতার যাদবপুর, দমদম, কামারহাটি, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক আসন রয়েছে বিশেষ গুরুত্বের তালিকায়। দলীয় সূত্রের খবর, উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, যাদবপুরে সৃজন ভট্টাচার্য এবং মালদহের একটি আসনে শতরূপ ঘোষকে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিছু নতুন মুখকেও প্রার্থী করতে আগ্রহী নেতৃত্ব। গ্রাম ও শহর— দুই ক্ষেত্রেই আলাদা কৌশল সাজানো হচ্ছে। গ্রামীণ শ্রমজীবী শ্রেণি এবং শহুরে মধ্যবিত্ত। দু’পক্ষের কাছেই নতুন করে পৌঁছতে চাইছে সিপিএম।তবে এই কৌশলগত অবস্থান জটিল করে তুলতে পারে বামফ্রন্টের জোট সমীকরণ। কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও, পূর্ববর্তী বৈঠকে ফ্রন্টের কয়েকটি শরিক দল কংগ্রেস–আইএসএফ জোটে আপত্তি জানিয়েছে। বিপরীতে সিপিআই ও ফরওয়ার্ড ব্লক চাইছে ‘বৃহত্তর বাম ঐক্য’, যেখানে সিপিআই (এমএল)-লিবারেশন ও এসইউসিআই-র মতো দলও থাকতে পারে।

