বিএলএ নিয়োগে নিয়ম শিথিল করল নির্বাচন কমিশন
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম শিথিল করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন বিএলএ তিনিই হতে পারবেন যিনি ভোটার তালিকায় উল্লিখিত ওই নির্দিষ্ট পার্ট এলাকার বৈধ বা রেজিস্টার্ড ভোটার। অর্থ্যৎ, বিএলও-দের মত বিএলএ-কেও নির্দিষ্ট পার্ট বা বুথ এলাকার ভোটার হতে হবে। মঙ্গলবার একটি নির্দেশিকা জারি করে কমিশন জানিয়ে দেয় যে যদি এই নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে গিয়ে যদি বিএলএ না পাওয়া যায় বা সংকট তৈরি হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত যেকোনও রেজিস্টার্ড বা বৈধ ভোটারকে বিএলএ হিসেবে নিয়োগ করা যাবে। মূলত, সব রাজনৈতিক দল যাতে যত বেশি সম্ভব বুথে তাদের মনোনীত প্রতিনিধিকে বিএলএ হিসেবে নিয়োগ করতে পারে সেজন্যই বিএলএ নিয়োগের নিয়মে এই শিথিলতা বলে মনে করছেন পদস্থ আধিকারিকরা। এর ফলে ভোটদানের জন্য বুথগুলিতে যাতে দলমতনির্বিশেষে সমতা বজায় থাকে এবং রাজনৈতিক শক্তির নিরিখে
ছোট -বড় সব দলেরই
ভোট ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য যতটা সম্ভব বজায় রাখা যায় সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলেও মনে করা হচ্ছে।
মূলত, কমিশন প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় কোনও ভুয়ো ভোটার অথবা মৃত বা অস্তিত্বহীন ভোটার রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখাই বিএলএ-দের কাজ। তাছাড়া ভোটের দিন বুথে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করাও বিএলএ-দের অন্যতম দায়িত্ব। সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই বিএলএ নিয়োগের সমান অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে ভোটদানের অধিকারে স্বচ্ছ্বতা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য বজায় রাখাই অন্যতম উদ্দেশ্য। এই পরিস্থিতিতে ছাব্বিশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিএলএ নিয়োগ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৮৮ জন বিএলএ-২ (যারা বিএলও-র সঙ্গে থাকবেন বা বুথেও বসতে পারবেন) নিযুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে তৃণমূলের ৫৪,১৪৯, বিজেপির ৪৮,০২৩, সিপিআইএমের ৩৫,৬৮৬, জাতীয় কংগ্রেসের ১০,১২৪, সর্বভারতীয় ফরোয়ার্ড ব্লকের ১,৩৮৬ জন।

